Advertisement
E-Paper

সূর্যোদয় নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত

সূর্যোদয় মূক ও বধির আবাসিক হোম থেকে আবাসিক পালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে। গত সোমবারও দুপুরে ১২ বছর বয়সী এক মূক ও বধির কিশোর হোমের পাঁচিল টপকে পালিয়ে যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০১৪ ০৭:০৮

সূর্যোদয় মূক ও বধির আবাসিক হোম থেকে আবাসিক পালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে। গত সোমবারও দুপুরে ১২ বছর বয়সী এক মূক ও বধির কিশোর হোমের পাঁচিল টপকে পালিয়ে যায়। পরে অবশ্য হেমতাবাদ এলাকা থেকে পুলিশ ওই ওই কিশোরকে উদ্ধার করে হোমে পৌঁছে দেয়। গত এক সপ্তাহে ৬ জন আবাসিক কিশোর হোম থেকে পালাল। ৫ জনই মূক ও বধির। পুলিশ রায়গঞ্জ ও হেমতাবাদের নানা এলাকা থেকে তাদের মধ্যে ৫ জনকে উদ্ধার করলেও এখনও একজন মূক ও বধির কিশোরের হদিস মেলেনি। সব মিলিয়ে একবছরে হোম থেকে ১৪ জন মূক ও বধির আবাসিক কিশোর, ৪ স্বাভাবিক আবাসিক কিশোরের পালানোর ঘটনা ঘটল। পুলিশ অবশ্য পরে তাদের মধ্যে ৯ জন মূক ও বধির ও ৪ জন স্বাভাবিক কিশোরকে উদ্ধার করলেও এখনও ৫ জন মূক ও বধিরের খোঁজ মেলেনি।

ঘটনায় উদ্বিগ্ন উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক স্মিতা পাণ্ডে। মঙ্গলবার জেলা শিশুকল্যাণ সমিতিকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হোম পরিচালনায় অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ করে শিশুকল্যাণ সমিতি। জেলাশাসক স্মিতা পান্ডে বলেছেন, “শিশুকল্যাণ সমিতিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছি। পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে ঠিকই। হোম কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও গাফিলতির জেরে আবাসিকদের পালানোর ঘটনা ঘটলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রায় এক মাস ধরে হোমের মূক ও বধির কিশোরদের হস্টেল সংস্কারের কাজ চলায় তাদের হোমের দোতলার ক্লাস রুমে রাখা হয়েছে। সেই কারণে সুযোগ পেয়ে কেউ পালিয়ে যাচ্ছে বলে হোম কর্তৃপক্ষের দাবি। বাড়ি থেকে হারিয়ে আদালতের নির্দেশে ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী মূক ও বধির কিশোর কিশোরীদের সমাজকল্যাণ দফতর অধীন হোমে রাখা হয়। পাচার হয়ে যাওয়া বা বিয়ের আসর থেকে নাবালিকাদের উদ্ধার সহ নানা মামলায় উদ্ধার করা কিশোর কিশোরীদেরও রাখা হয়। সব মিলিয়ে হোমে ৬১ জন আবাসিক আছে। জেলা শিশুকল্যাণ সমিতি চেয়ারম্যান সুনীলকুমার ভৌমিক বলেন, “হোম কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যেই আবাসিকদের মধ্যে কম ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করছেন। হোমের কাজ করতে কোনও সময় আবাসিকেরা না করেল, তাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সব মিলিয়ে হোম থেকে পালানোর প্রবণতা বেড়েছে। আমরা রিপোর্টে সব উল্লেখ করব।”

হোমের অধ্যক্ষ পার্থসারথি দাস সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিরাপত্তারক্ষী, নৈশপ্রহরীসহ হোমের ১৫টিরও বেশি পদ ফাঁকা। সব মিলিয়ে মাত্র ২৫ জন আছেন। কর্মীর অভাবে আবাসিকদের উপর ঠিকমত নজরদারি চালানো সম্ভব হয় না।” তিনি এ দিন আরও বলেন, হোমে ৫০ আবাসিক থাকার কথা থাকলেও সংখ্যাটা অনেক সময় ৬৫ ছাড়িয়ে যায়। এ ছাড়াও নানা পরিকাঠামোগত সমস্যা আছে। আবার সব উচ্চ স্তরে একাধিক বার জানিয়েছি। আমার মনে হয় বেহাল পরিকাঠামোর জন্য আবাসিকরা বার বার পালাচ্ছে।”

north dinajpur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy