সমন্বয় বাড়াতে দলের সরকারি কর্মীদের সংগঠনেরও সাহায্য চাইল দার্জিলিং জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। রবিবার সকালে শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম হলে তৃণমূল প্রভাবিত ভূমি এবং ভূমি সংস্কার এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের দার্জিলিং জেলা সম্মেলন হয়েছে। সেই সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময়ে সংগঠনের নেতৃত্ব এবং কর্মীদেরও নিয়মিত তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিসে আসার আর্জি জানিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার।
জেলা তৃণমূল সভাপতির দাবি, সরকারি কর্মীরা নিয়মিত জেলা অফিসে এলে দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের মধ্যে যেমন সমন্বয় বাড়বে তেমনইই সাধারণ মানুষের ‘পছন্দ-অপছন্দ’ও আরও বেশি করে নেতৃত্ব জানতে পারবেন। ভূমি দফতরের কর্মী সংগঠনের সম্মেলনে তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জনবাবু ছাড়াও শিলিগুড়ির বিধায়ক রুদ্রনাথ ভট্টাচার্যও উপস্থিত ছিলেন।
পুরসভা এবং মহকুমা পরিষদ এক মাসের ব্যবধানে শিলিগুড়িতে দুই ভোটেই হার হয়েছে তৃণমূলের। হারের কারণ বিশ্লেষণ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের বৈঠক না হলেও, নেতাদের একাংশের দাবি, সংগঠনের সঙ্গে নিচুতলার যোগাযোগে খামতি থাকাও হারের অন্যতম কারণ। সংগঠনকে গোছাতে দার্জিলিং জেলায় দলের নেতৃত্বে রদবদলও ঘটিয়েছে তৃণমূলের
রাজ্য নেতৃত্ব।
কয়েক মাস বাদেই বিধানসভা ভোট ধরে নিয়ে সংগঠন গোছাতেও শুরু করেছে দলের বর্তমান নেতৃত্ব। শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে দলের জেলা অফিস দিনের বেশির ভাগ সময়ই তালাবন্ধ থাকত বলে কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ ছিল। জেলা সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পার্টি অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন রঞ্জনবাবু। এবার শাখা সংগঠন এবং মনোভাবাপন্ন সংগঠনগুলিকেও ‘পার্টি অফিসমুখী’ হওয়ার আবেদন জানালেন তিনি।
এ দিনের সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা নিয়মিত পার্টি অফিসে আসুন। যে কোনও প্রয়োজনে সরাসরি কথা বলা যাবে।’’ রঞ্জনবাবুর আর্জি শুনে হাততালিও পড়েছে স্টেডিয়াম হলে। দলের ঘোষিত নীতি মেনে সরকারি কর্মীদের বন্ধ বা কাজের সময়ে আন্দোলন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সরকারি অফিসে গিয়ে সাধারণ বাসিন্দাদের যেন খালি হাতে ফিরতে না হয়, তার আর্জিও জানিয়েছেন। যদিও, তৃণমূলের নেতাদের কয়েকজনের দাবি, জেলা সভাপতির আর্জিতে কতটা কাজ হয়, তা সময়ই বলবে।
ভূমি এবং ভূমি সংস্কার এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের দার্জিলিং জেলা সম্মলনে কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়া, মৃতকর্মীদের পোষ্যের দ্রুত চাকরির ব্যবস্থা সহ সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। এ দিন সংগঠনের নতুন কমিটিও গঠন হয়েছে।