Advertisement
E-Paper

হাসপাতালে অনশনে অনড় অভিযুক্ত নুবাস

তরল ‘খাবার’ খেলেও, শক্ত খাবার খেতে অস্বীকার করলেন জলপাইগুড়ি বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত নুবাস বমর্ন। ২৬ মার্চ জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার হাজতে অনশন শুরু করেন কামতাপুর পিপলস পার্টির (কেপিপি) সহকারী সাধারণ সম্পাদক নুবাস বর্মন সহ ওই মামলায় অভিযুক্ত ৬ বন্দি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৪ ০২:২৪

তরল ‘খাবার’ খেলেও, শক্ত খাবার খেতে অস্বীকার করলেন জলপাইগুড়ি বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত নুবাস বমর্ন। ২৬ মার্চ জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার হাজতে অনশন শুরু করেন কামতাপুর পিপলস পার্টির (কেপিপি) সহকারী সাধারণ সম্পাদক নুবাস বর্মন সহ ওই মামলায় অভিযুক্ত ৬ বন্দি। অনশন শুরুর দু’দিন পরেই তাদের জেলা হাসপাতালের পুলিশ সেলে ভর্তি করানো হয়। অন্যরা আগেই অনশন প্রত্যাহার করলেও, নুবাসবাবু বুধবার বিকেল পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত অনড় ছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। যদিও, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে বুধবার বিকেলে তিনি দুধ খেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্যালাইনও নিয়েছেন তিনি।

গত ২৬ ডিসেম্বর জলপাইগুড়ির বজ্রাপাড়ায় বিস্ফোরণে ৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ধৃত কেপিপি নেতা নুবাসবাবু সহ দীপঙ্কর সিংহ, চন্দন রায়, আদিত্য রায়, পবিত্র রায় এবং অনুকুল সিংহও অনশন শুরু করেন। ওই বিস্ফোরণ মামলাতেই জড়িত থাকার অভিযোগে কেএলও শীর্ষ নেতা টম অধিকারী, মঞ্চলাল সিংহ, ইকবাল সিদ্দিকী এবং তরুণ থাপাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নুবাসবাবুদের অভিযোগ, মিথ্যে মামলায় তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে। লোকসভা ভোটেও তাঁর অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে অনশন শুরু করেছিলেন ৬ অভিযুক্ত।

গত ৩০ মার্চ নুবাসবাবু ছাড়া বাকিরা অনশন প্রত্যাহার করায় তাঁদের হাসুপাতাল থেকে কোতোয়ালি থানায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের সুপার সুশান্ত রায় বলেন, “অনশনকারী সুস্থ রয়েছেন। মেডিক্যাল বোর্ড ওঁর দেখাশোনা করছে। তিনি স্যালাইন নিতে রাজি হয়েছেন। দুধও খেয়েছেন রক্ত পরীক্ষার একটি রিপোর্ট পাওয়া গেলে তাঁকে ছুটি দেওয়া হতে পারে।”

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে হাসপাতালের সুপার নিজে অনশনরত কেপিপি নেতা নুবাসবাবুর সঙ্গে কথা বলেন অনেক অনুরোধের পরে বিকেল পাঁচটা নাগাদ তিনি দুধ খেতে রাজি হন। যদিও ভাত, রুটির মতো শক্ত খাবার তিনি ফিরিয়ে দেন। কেপিপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে নুবাসবাবুর তুফানগঞ্জের বাড়িতে খবর যায় তাঁর শারীরিক অবনতি হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়তে দলীয় নেতা ও কর্মী মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে এসেছিলেন নুবাসবাবুর স্ত্রী নমিতাদেবী ও কেপিপির সাধারণ সম্পাদক নিখিল রায়। নিখিলবাবু বলেন, “শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে যে খবর পাই, সেটা ঠিক নয়। তবে এটা ঠিক একটানা অনশনের কারণেই উনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। ওই কারণে বুধবার তাঁকে দুধ খেতে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে রাজি করানো হয়েছে।” এ দিকে কেপিপির পক্ষ থেকে এক দল প্রতিনিধি আজ, শুক্রবার জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে নুবাসবাবুর মুক্তির দাবি জানাবেন। জেলাশাসককে একটি স্মারকলিপিও পেশ করবেন বলে দলের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবারেও নুবাসবাবু জানিয়েছে, তাঁর নামে রুজু করা মামলাগুলি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত শক্ত খাবার গ্রহণ করবেন না।

jalpaiguri blast mubas barman
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy