ফুলবাড়ি থেকে ধূপগুড়ি পর্যন্ত ৩১ ডি জাতীয় সড়কের মেরামতির জন্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই জাতীয় সড়কের প্রায় ৬৯ কিলোমিটার লম্বা ওই অংশের সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়াও সেরে রেখেছে রাজ্যের পূর্ত দফতরের জাতীয় সড়ক বিভাগ। শুক্রবার সড়ক কর্তৃপক্ষ ওই বরাদ্দ মঞ্জুর করেছেন বলে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী গৌতম দেব জানিয়েছে। আগামী সোমবার থেকে সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে এ দিন গৌতমবাবু জানিয়েছেন। এ দিন-ই ফুলবাড়ি থেকে সলসলাবাড়ি পর্যন্ত ১৫৩ কিলোমিটার সড়কের কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াও দিল্লিতে শুরু হয়েছে বলে গৌতমবাবু জানান।
গৌতমবাবু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই জাতীয় সড়ক সংস্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে দরবার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছে। মন্ত্রী হয়েও সড়ক সস্কারের দাবিতে আমরা অবস্থানে বসেছি। এরপরে গত বছরে পূর্ত দফতরই জাতীয় সড়ক সংস্কার করতে চেয়ে কেন্দ্রকে বিস্তারিত প্রকল্প পাঠায়। তারপরেও টাকা বরাদ্দ করতে অনেক সময় লাগাল। যাই হোক এ বার দ্রুত কাজ শুরু হবে।”
শিলিগুড়ি লাগোয়া ফুলবাড়ি থেকে ধূপগুড়ি পর্যন্ত ৩১ ডি জাতীয় সড়কের বেহাল দশা নিয়ে গত দু’বছর ধরেই একাধিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল আন্দোলন চালিয়ে আসছে। গত বছরের জুলাই মাসে ৩১ডি জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাজ্যের পূর্ত দফতরকে দিয়ে দেয় জাতীয় সড়ক কতৃর্পক্ষ। রাজ্য সরকারও প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। গত বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় সরকার তথা মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ ৮৯ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছিল। শুক্রবার ওই অনুমোদমনের প্রায় ৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ।
এ দিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী জানিয়েছেন, দু’টি ভাগে জাতীয় সড়ক সংস্কারের কাজ হবে। প্রথম পর্যায়ে শিলিগুড়ি লাগোয়া ফুলবাড়ি থেকে জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া গোশালা মোড় পর্যন্ত সড়ক সংস্কার হবে। যার জন্য প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে গোশালা মোড় থেকে ধূপগুড়ি পর্যন্ত সংস্কার হবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়ে থাকায় আগামী সোমবারে কাজ শুরু করা সমস্যা হবে না বলে পূর্ত দফতর থেকেও জানানো হয়েছে। বর্ষার আগেই সংস্কারের কাজ শেষ করার বিষয়ে দফতর আশাবাদী।
পূর্ব-পশ্চিম জাতীয় সড়ক প্রকল্পে ফুলবাড়ি থেকে আলিপুরদুয়ারের সলসলাবাড়ি পর্যন্ত চার লেনের সড়কের টেন্ডার শুরু হওয়ায় আগামী বছরের মধ্যেই কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বাগডোগরা লাগোয়া ঘোষপুকুর পর্যন্ত মহাসড়ক তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। ২৫৩ কিলোমিটার সড়ক তৈরির জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। সড়কে বিকল্প তিস্তা এবং জলঢাকা সেতু তৈরি করার জন্য বরাদ্দ বেশি ধরা হয়েছে বলে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।