এখনও ভেন্টিলেশনেই রয়েছেন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্স। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। নমুনা পরীক্ষার দুই নার্সের শরীরেই নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনাগুলি পুণেতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’জনের অবস্থাই অত্যন্ত সঙ্কটজনক। আপাতত ভেন্টিলেশনে রয়েছেন তাঁরা।
ঘটনার পরেই সক্রিয় হয়েছে রাজ্য। কেন্দ্রের তরফেও সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বারাসতের ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন রাজ্য এবং কেন্দ্রের স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দল। পাশাপাশি, কী ভাবে ওই দুই নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন, গত কয়েক দিনে তাঁরা কাদের সংস্পর্শে এসেছেন, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলছে ‘কন্ট্যাক্ট টেস্টিং’-এর কাজ। অর্থাৎ, যাঁরাই ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করে নমুনা সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁদের সকলকে নিভৃতবাস (কোয়ারেনন্টিন)-এ থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বেলেঘাটা আইডিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১০টি এমার্জেন্সি শয্যা এবং ওয়ার্ডে ৬৮টি শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া, ভেন্টিলেশনও প্রস্তুত রয়েছে। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য স্বপন সমাদ্দার বলেন, ‘‘নিপা ভাইরাস নিয়ে মঙ্গলবারই সমিতির বৈঠক হয়েছে। সমস্ত প্রস্তুতি আমরা নিয়ে নিয়েছি। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। আপাতত সকলকে বলব, সতর্ক থাকুন। আধখাওয়া ফল খাবেন না। ফলের রসের দোকান থেকেও একটু দূরে থাকুন। ফল কিনলেও গরম জলে ধুয়ে খান।’’
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, নিপা-আক্রান্ত দুই নার্স কিছু দিন আগেই বর্ধমানে গিয়েছিলেন বলে খবর। কাটোয়ায় তাঁরা কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তার সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করে সকলের স্বাস্থ্যের অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম। তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৪৮ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ দলও গড়েছে স্বাস্থ্য ভবন। এ বিষয়ে আদর্শ কার্যপদ্ধতি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর বা এসওপি) তৈরি করা হচ্ছে। গোটা বিষয়টি নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অযথা আতঙ্কিত না-হয়ে, সকলকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বরও।
কী ভাবে ছড়ায় নিপা ভাইরাস?
চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ভাইরাসের উৎস মূলত বাদুড়। বাদুড়ের আধখাওয়া ফল থেকে ছড়ায় এই ভাইরাস। কখনও কখনও আক্রান্তের ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দলুইয়ের কথায়, ‘‘প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের কোনও আলাদা উপসর্গ থাকে না। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, মাথা ধরা, পেট খারাপ, দুর্বলতা, খিদে কমে যাওয়া— এ রকম সাধারণ উপসর্গ দেখা যায়। এ রকম হলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে। এ ছাড়াও সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া, সবজি ও ফল ভাল করে ধুয়ে খাওয়া, আধখাওয়া ফল, খেজুর বা ফলের রস না খাওয়া— এ সব সতর্কতা মেনে চলতে হবে।’’ অনির্বাণ জানাচ্ছেন, দ্রুত সংক্রমণ না ছড়ালেও নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার বেশি (৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ)। তাই সব রকম সতর্কতা অবলম্বন করাই বাঞ্ছনীয়।