Advertisement
E-Paper

এসআইআরের মামলা তাঁদের এজলাসেই, ভোটার তালিকায় সেই বিচারপতি বাগচীরই বাংলা নাম ভুল! এমন উদাহরণ আরও

ইংরেজিতে ঠিক, বাংলায় ভুল— ভোটার তালিকা ঘিরে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, ভোটার কার্ডেও থেকে যাচ্ছে বাংলা বানানের ভুল। কমিশনের সফট্‌অয়্যারেই কি গলদ?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ২২:০০

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এসআইআর মামলার শুনানিতে নামের গরমিল নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। নামের বানান ভুলে শুনানিতে ডেকে পাঠানোয় নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। এ বার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা গেল তাঁরই নামের বানান ভুল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নামের ‘বাংলা বানান’ ভুল রয়েছে। যদিও ভোটার তালিকার ইংরেজি সংস্করণে বিচারপতির নামের বানান সঠিকই আছে। সেখানে সঠিক ভাবেই লেখা হয়েছে।

শুধু বিচারপতিই নন, রাজ্যের প্রচুর সংখ্যক মানুষের বাংলা নামের বানানে ভুল রয়েছে। নির্বাচন কমিশনও এমন ভুলের কথা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে তাদের যুক্তি, ভোটার তালিকার ইংরেজি সংস্করণ দেখেই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বাংলা বানানে ভুল হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, কমিশনের গাফিলতির কারণে কোনও ভোটারের এপিক কার্ডে বাংলা নাম ভুল থাকবে কেন?

শনিবার এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। ইংরেজি এবং বাংলা দুই ভাষাতেই ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা ভাষায় নামের বানানে ব্যাপক গন্ডগোল হয়েছে বলে অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি বাগচীর নামের বানানেও ভুল রয়েছে। তিনি রাসবিহারী কেন্দ্রের ভোটার। তালিকায় যোগ্য ভোটার হিসাবে তাঁর নাম রয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ভুল রয়েছে বিচারপতির নামের বাংলা বানানে। নামের বানান এমন ভাবে লেখা রয়েছে যা উচ্চারণ করা রীতিমতো কঠিন। প্রশ্ন উঠছে, ভোটারদের নামের বানান নিয়ে এই ধরনের ভুল কি ইচ্ছাকৃত? অভিযোগ, আগেও এই ধরনের ভুল ছিল, কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সেই ভুলই রেখে দেওয়া হয়েছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর মামলার শুনানি ছিল। সে দিন তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি) নিয়ে কমিশনের উদ্দেশে প্রশ্ন করেছিলেন বিচারপতি বাগচী। তাঁর মন্তব্য, ‘‘আপনারা যে সফট্‌অয়্যার টুল ব্যবহার করছেন, সেখানে নামের সামান্য পার্থক্যের জন্য ডেকে পাঠানো হচ্ছে। বাংলা পরিবারে ‘কুমার’ প্রায়ই মধ্যনাম হিসাবে ব্যবহৃত হয়। যদি ‘কুমার’ বাদ পড়ে, তাতেও নোটিস পাঠাচ্ছেন।’’ কমিশনের বক্তব্য, বিচারপতির ওই মন্তব্য ইংরেজি বানান নিয়ে। বাংলায় নামের বানান ভুলের জন্য কাউকে শুনানিতে ডাকা হয়নি।

বিচারপতি বাগচী তো বটেই, প্রচুর ভোটারের নামের বাংলা বানান ভুল রয়েছে। এমনকি কমিশনের এক আধিকারিকের নামের বাংলা বানানেও ভুল রয়েছে। বাংলা বানানে এত ভুল নিয়ে কমিশন অবশ্য নীরব। পুরোটাই প্রযুক্তির বিষয় বলে তারা দায় ঠেলেছে। কমিশনের ওই আধিকারিকের কথায়, ‘‘ইংরেজিতে ভোটার তালিকা দেখা নিয়ম। প্রান্তিক মানুষরা যাতে ভোটার তালিকা দেখতে পারেন, সেই কারণে আঞ্চলিক ভাষায় লেখা হয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এমনটা হয়েছে। আগামী দিনে এগুলো সংশোধন করা যাবে।’’ এখানেই প্রশ্ন, ইংরেজিতেই নাম প্রকাশ সঠিক ধরা হলে, বাংলায় ভুলে ভরা তালিকা প্রকাশের কী প্রয়োজনীয়তা ছিল? প্রান্তিক মানুষরা কি ভোটার তালিকায় নিজেদের নামের বানান ভুল দেখে খুশি হবেন?

শুধু তালিকাই নয়, নতুন ভোটার কার্ডের ক্ষেত্রেও এই ভুলগুলি থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। বেহালার বাসিন্দা এক মহিলার দাবি, সম্প্রতি ভোটার কার্ড পেয়েছেন। সেখানে নামের ইংরেজি বানান থাকলেও, বাংলায় শুধু লেখা রয়েছে ‘র’ রায়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এরকম একটি ভুল নিয়েই ভোটার কার্ড ব্যবহার করতে হবে।’’ ২০০২ সালের ভোটারদের নামে এই ধরনের ভুল থাকার অভিযোগ রয়েছে। কমিশনের মতে, নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে নামের বানান ভুলের অভিযোগ খুবই কম। চূড়ান্ত তালিকায় ২০০২ সালের ওই সব ভুলই থেকে গিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই পুরো প্রক্রিয়ায় কমিশন অনেক বেশি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই এত ত্রুটি। বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করেছেন। ভোটারেরা সেই ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী নথিভুক্ত হলে ভুল অনেক কমে যেত।

Justice Joymalya Bagchi SIR
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy