Advertisement
E-Paper

বিজেপি চাইছে বিচারব্যবস্থার একাংশকে কাজে লাগিয়ে ভোট পিছোতে, দাবি করে অভিষেক, ‘রাষ্ট্রপতি শাসন করে দেখুক’!

ফের এক বার অভিষেক দাবি করেছেন, আগের বারের থেকে আসন এবং ভোট, দুই-ই বাড়বে তৃণমূলের। তাঁর কথায়, “এসআইআর-ই করুন বা এফআইআর, ২০২৬-এ আপনারা (বিজেপি) ৫০-এর নীচে নেমে যাবেন। এক বছর আগে যা বলেছি, আজও তাই বলছি। তৃণমূলের ভোট, আসন দুটোই বাড়বে।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ২২:০৬
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

বিচারব্যবস্থার একাংশকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবাংলার বিধানসভা ভোট বিজেপি পিছিয়ে দিতে চাইছে বলে দাবি করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তাঁর এ-ও অনুমান, ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। তা হলে কি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন বা অনুরূপ কোনও সাংবিধানিক ব্যবস্থার মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে? এই প্রশ্নে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেক রবিবার বলেছেন, ‘‘করে দেখুক না!’’

এসআইআর প্রক্রিয়ার পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকার আংশিক প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা অনুযায়ী ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের ভবিষ্যৎ এখনও বিবেচনাধীন। তাঁদের বিষয়টি দেখছেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো নিযুক্ত বিচারক এবং বিচারবিভাগের আধিকারিকেরা। সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, ‘‘৫০০ জন এই কাজে নিযুক্ত হয়েছেন। ৬০ লক্ষ মানুষের নাম, নথি স্ক্রুটিনি করতে তিন-চার মাস লেগে যাবে। তা হলে কোন জাদুকাঠির বলে মে মাসের ৫ তারিখের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে?’’ অভিষেকের বক্তব্য, যদি মে মাসের ৫ তারিখের মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, তা হলে ২০ মার্চের মধ্যে ভোট ঘোষণা করতে হবে। এর মধ্যে ৬০ লক্ষ মানুষের নামের বিবেচনা করা ৫০০ আধিকারিকের পক্ষে সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, এই ৬০ লক্ষ মানুষের নাম খসড়া তালিকায় ছিল। ফলে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারই তাঁদের এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন। প্রয়োজনে জ্ঞানেশের সেই কথা সুপ্রিম কোর্টে পেশ করার কথাও বলেছেন তৃণমূলের সেনাপতি। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাব, যাতে বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সংস্থান আদালত করে দেয়।’’

অভিষেক পরিসংখ্যান দিয়ে দাবি করেন, শনিবার কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তা যদি গত ২০ ফেব্রুয়ারির কমিশন প্রদত্ত তালিকার সঙ্গে মেলানো যায়, তা হলে দেখা যাবে, নতুন ভোটারের সংখ্যা কমে গিয়েছে এবং ৭ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে বাতিল ভোটারের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। তাঁর এ-ও অভিযোগ, বিবেচনাধীন তালিকায় ৪৬ লক্ষ নাম জবরদস্তি অন্তর্ভুক্ত করেছে কমিশন। এবং তা করা হয়েছে ‘বিজেপি-র বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা’ অনুযায়ীই।

রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, গোলাম রব্বানি, বীরভূমের জেলা পরিষদ সভাধিপতি কাজল শেখদের নাম রয়েছে বিবেচনাধীন তালিকায়। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক জানিয়েছেন, স্ক্রুটিনি সম্পন্ন না-হলে যদি ভোট ঘোষণা হয়ে যায়, এবং বিবেচনাধীনদের যদি ভোটাধিকার না-দেওয়া হয়, তা হলে প্রার্থিতালিকাও চূড়ান্ত করা যাবে না। তৃণমূলের সেনাপতির অভিযোগ, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুরের বহু বিধানসভায় ৭০-৮০ শতাংশের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। বেছে বেছে মহিলা, তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষ এবং সংখ্যালঘুদের নাম নিয়ে এই কারসাজি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। অভিষেকের বক্তব্য, ‘‘এঁরা বিজেপি-কে ভোট দেন না বলেই অভিসন্ধি নিয়ে এঁদের টার্গেট করা হয়েছে।’’ ঘটনাচক্রে গত দেড় দশক ধরে এই অংশ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু এবং মহিলা ভোটের বিরাট সমর্থন তৃণমূলের দিকেই রয়েছে।

রবিবার ফের এক বার অভিষেক দাবি করেছেন, আগের বারের থেকে আসন এবং ভোট, দুই-ই বাড়বে তৃণমূলের। তাঁর কথায়, “এসআইআর-ই করুন বা এফআইআর, ২০২৬-এ আপনারা (বিজেপি) ৫০-এর নীচে নেমে যাবেন। এক বছর আগে যা বলেছি, আজও তাই বলছি। তৃণমূলের ভোট, আসন দুটোই বাড়বে।’’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানাবিধ আলচনা রয়েছে। বিজেপি-ও নানাবিধ দাবি করতে শুরু করেছে। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘‘ভবানীপুরে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৪৮ হাজারের নাম আছে। ৮০ শতাংশ যদি ভোট পড়ে তা হলে এক লক্ষ ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাবেন।’’

এসআইআর পর্বে তিন ভাবে দলকে সক্রিয় রেখেছিলেন মমতা এবং অভিষেক। এক, নিচুতলার সংগঠনকে বুথস্তরে পৌঁছে দেওয়া। দুই, আদালতে দৌত্য চালানো এবং তিন, রাস্তার আন্দোলন। শনিবার প্রথম তালিকা প্রকাশের পরেও সেই অভিমুখেও অগ্রসর হওয়ার কথা বললেন অভিষেক। কমিশনের ‘কারচুপি’ নিয়ে ফের আদালতে যাবে তৃণণূল। ৬ মার্চ ধর্মতলায় ধর্নায় বসছেন মমতা। আর নতুন করে নাম তোলাতে সাংগঠনিক সক্রিয়তাও জারি রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

Abhishek Banerjee West Bengal SIR Special Intensive Revision
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy