দুর্গাপুরকাণ্ডে দোষীদের কঠোর শাস্তির জন্য সব জায়গা থেকে চাপ তৈরি করা হবে। ‘নির্যাতিতা’র মাকে সেই বার্তাই দিয়ে রাখলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝী। সোমবার ‘নির্যাতিতা’ এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দুর্গাপুরে যান ওড়িশা মহিলা কমিশনের প্রধান শোভনা মোহান্তি। ওই সময় ‘নির্যাতিতা’, তাঁর পরিবার এবং মহিলা কমিশনের প্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। পরে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়, দুর্গাপুরকাণ্ডে দ্রুত সুবিচারের জন্য সর্বস্তর থেকে চাপ তৈরি করা হবে বলে তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন মোহন।
‘নির্যাতিতা’ এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে মোহনের ফোনালাপের একটি ভিডিয়ো পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলিকে পাঠায় সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর। সেখানে ‘নির্যাতিতা’র উদ্দেশে মোহন বলেন, “একদম চিন্তা করবেন না। ওড়িশা সরকার আপনার এবং আপনার পরিবারের সঙ্গে সব রকম ভাবে রয়েছে। আমরা সব কিছু দেখে নেব। ধৈর্য হারাবেন না। মনে সাহস রাখুন।” ২৩ বছর বয়সি ওই ডাক্তারির ছাত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন মোহন। তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সব রকম সাহায্যের আশ্বাসও দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যাতে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়, তা তিনি নিশ্চিত করবেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই অনুসারে, ওড়িশার যে কোনও মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর হওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মোহনের কাছে সাহায্য চান ‘নির্যাতিতা’। তখন মোহন তাঁকে জানান, এ বিষয়ে কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। ছাত্রীর উদ্দেশে মোহন বলেন, “আপনি যে হেতু একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী, তাই এটি (অন্য কলেজে স্থানান্তর) কী ভাবে করা যায়, তা আমাকে জানতে হবে। আমি ইতিমধ্যে আধিকারিকদের এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছি।”
‘নির্যাতিতা’র কী কী সমস্যা রয়েছে, তা ওড়িশার মহিলা কমিশনের প্রধানকে জানানোর জন্য ওই ছাত্রীকে পরামর্শ দেন মোহন। তিনি বলেন, “আমাদের যে প্রতিনিধিরা দুর্গাপুরে আপনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন, তাঁদের আপনার সমস্যার কথা বলুন।” সোমবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও ‘নির্যাতিতা’র পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। ফোনে ‘নির্যাতিতা’র মায়ের কাছে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, রাজ্যপালকে তাঁরা নিজেদের উদ্বেগের বিষয়গুলি জানিয়েছেন কি না। ছাত্রীর মাকে মোহন আশ্বাস দেন, “এই জঘন্য অপরাধের জন্য দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এর জন্য ওড়িশা সরকার প্রতিটি স্তরে চাপ দিয়ে যাবে।” ওড়িশার মহিলা কমিশনের প্রধান মোহান্তিকেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার পরামর্শ দেন মোহন।
আরও পড়ুন:
ওড়িশার বাসিন্দা ওই ডাক্তারির ছাত্রী দুর্গাপুরের এক মেডিক্যাল কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পাঠরত। অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়ে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। গণধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে নেমে অভিযুক্ত পাঁচ জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ আগেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছিল। রবিবার তাঁদের আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাঁদের ১০ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পরে রবিবার রাতে এবং সোমবার বেলার দিকে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়া ‘নির্যাতিতা’র এক সহপাঠীও আটক রয়েছেন।
সোমবার আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনারেটের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্গাপুরকাণ্ডে ‘নির্যাতিতার’ পরিবারের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তারা চাইলে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হবে। পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী এ-ও জানান, ‘নির্যাতিতার’ বাবার সঙ্গে নিজে দেখা করে কথা বলেছেন। সব রকম সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগ। অভিযোগ, কয়েক জন যুবক ক্যাম্পাসের বাইরে তরুণীকে হেনস্থা করেন প্রথমে। তার পর তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে তরুণীর পুরুষ বন্ধুকে।
- এই ঘটনায় পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলির উচিত পড়ুয়াদের, বিশেষত ছোট মেয়েদের রাতে বাইরে বেরোতে না-দেওয়া। তাদের নিজেদেরও সুরক্ষিত থাকতে হবে।”
-
দুর্গাপুর: হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন ‘নির্যাতিতা’, ফিরলেন হস্টেলে, বাবা গেলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে
-
দুর্গাপুরকাণ্ডে ধৃত প্রথম পাঁচ জনেরই ডিএনএ পরীক্ষা হয়ে গেল! ‘ধর্ষিতা’র সহপাঠীর সাত দিনের পুলিশি হেফাজত
-
দুর্গাপুরকাণ্ডে ধৃত ‘নির্যাতিতা’র সহপাঠীও! তবে ধর্ষক এক জনই, অনুমান পুলিশের, যদিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে সব ধৃতের ভূমিকাই
-
অত রাতে মেয়েদের কলেজ থেকে বেরোনো উচিত নয়, পুলিশ প্রত্যেক ইঞ্চিতে সুরক্ষা দিতে পারে না! ‘রায়’ সৌগতের
-
দুর্গাপুরে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচ, তৃণমূলযোগের অভিযোগ শুভেন্দুর, মমতার মন্তব্যে বিতর্ক