পরনের সাদা শাড়ির কালো পাড়ে লেখা ‘মেরুদণ্ড বিক্রি নেই’। সোমবার মেয়ের ৩৩তম জন্মদিনে ওই শাড়ি পরে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিলেন আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের মা। চিকিৎসক সমাজ থেকে সাধারণের কাছে তাঁর দাবি, মেরুদণ্ড সোজা রেখে তাঁরা যেন গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সময়ে আরও ভাবনাচিন্তা করেন। একই দাবি তুলে ওই চিকিৎসকের বাবাও বললেন, ‘‘২০২৬-এর নির্বাচনে আপনাদের মতামতেই সুষ্ঠু সরকার তৈরি হবে। তাই ভাবনাচিন্তা করবেন।’’
এ দিন তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মায়ের এই বক্তব্য প্রকারান্তরে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলের বিরুদ্ধে তাঁদের রাজনীতির ময়দানে নামার ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও নির্দিষ্ট ভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে তাঁরা কথা বলছেন না বলেই চিকিৎসক পড়ুয়ার বাবা-মায়ের দাবি। তাঁর বাবার কথায়, ‘‘আগে ছিল বৈজ্ঞানিক রিগিং, এখন হয়েছে বৈজ্ঞানিক দুর্নীতি। তার মাধ্যমেই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ চাপার চেষ্টা চলছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের সকলের লড়াই।’’
তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় ১৮ মাস কেটে গেলেও এখনও ন্যায় বিচার মেলেনি বলেই অভিযোগ। বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের অভিযোগ তুলে এ দিন রাস্তায় নেমেছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট (ডব্লিউবিজেডিএফ), আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং স্টুডেন্টস বডি। যদিও এ দিন ‘ডব্লিউবিজেডিএফ’-র সঙ্গে যৌথ ভাবে কর্মসূচি পালন করেনি আর জি করের ওইদুটি সংগঠন।
এ দিন দুপুরে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি জমা দেওয়া ও জমায়েত এবং সন্ধ্যায় আর জি করে ‘ক্রাই অব দ্য আওয়ার’ মূর্তির সামনে স্মরণসভার কর্মসূচি রেখেছিল ‘ডব্লিউবিজেডিএফ’। আবার, বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে ওই একই জায়গায় স্মরণসভা করল আর জি করের দুটি সংগঠন। ন্যায় বিচারের লড়াইয়ে এই পৃথক কর্মসূচিতে বিভাজনের ছবিটাই ছিল স্পষ্ট।
ন্যায় বিচারের দাবিতে যে ডোরিনা ক্রসিংয়ে জুনিয়র চিকিৎসকেরা অনশনে বসেছিলেন, এ দিন দুপুরে সেখানেই ছিল জমায়েত। তাতে জুনিয়র চিকিৎসক সংগঠনের মুখ বলে পরিচিত দেবাশিস হালদারেরা উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না অনিকেত মাহাতো। বরং বিকেলে তিনি ছিলেন আর জি করের স্মরণ সভায়। অনিকেত বলেন, ‘‘একটি সুনির্দিষ্ট কারণে আমি জেডিএফ ছেড়েছি। কিন্তু সকলের একটাই লক্ষ্য, ন্যায় বিচারের দাবিতে লড়াই। সেটা প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে করছেন।’’ অন্য দিকে দেবাশিস বলেন, ‘‘কে, কোথায় কী ভাবে আন্দোলন করলেন সেটা প্রাসঙ্গিক নয়। সকলের লক্ষ্য এক, সেটাইবড় কথা।’’
গত বছরের নভেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৫ বার মামলার তারিখ পড়লেও, বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এবং গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত শুনানির দাবিতে এ দিন প্রায় পাঁচশো মহিলা চিকিৎসকের সই করা স্মারকলিপি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দফতরে জমা দেয় ‘ডব্লিউবিজেডিএফ’। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কর্মসূচিতে এসে অভয়া মঞ্চের তরফে চিকিৎসক তমোনাশ চৌধুরী জানান, আগামী ৯ মার্চ দিল্লিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ডেপুটেশন দেওয়ার পাশাপাশি যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি করা হবে। অন্য দিকে ‘ক্রাই অব দ্য আওয়ার’ মূর্তিতে ৩৩টি লাল গোলাপের মালা পরিয়ে, প্রদীপ জ্বালিয়ে ও শ্যামবাজার পর্যন্ত মোমবাতি মিছিল করে আর জি কর রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং স্টুডেন্টস বডি। এ দিন তরুণী চিকিৎসকের বাড়ির এলাকায় মশাল মিছিল করে অভয়া মঞ্চ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)