রেলিংয়ের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা দুই হাত। দু’চোখ জল। সঙ্গে আকুতি, ‘ছেড়ে দাও, ঘরে যাব’। মোবাইল চোর সন্দেহে মিনিট কুড়ি ধরে এ ভাবেই আটকে রাখা হল বছর বারোর এক কিশোরকে। রবিবার সকালে আসানসোলের মহিশীলায় পুলিশ গিয়ে কিশোরকে উদ্ধার করে।
এ দিন স্থানীয় ক্ষুদিরামপল্লির এক বাসিন্দা বাজারে গিয়ে খেয়াল করেন, পকেট থেকে মোবাইল উধাও। তার পরেই এলাকায় অপরিচিত ওই কিশোরকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে কিছু লোকজন তাকে চেপে ধরে। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, কিশোরের কোমর থেকে মোবাইলটি পাওয়া যায়। তার পরেই দড়ি দিয়ে একটি মাঠের রেলিংয়ে দুই হাত বেঁধে ফেলা হয় কিশোরের। সে বারবার বলে, ‘‘মোবাইল তো পেয়ে গিয়েছ। এ বার ছেড়ে দাও।’’ কিন্তু তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। খবর পৌঁছয় আসানসোল দক্ষিণ থানায়। উদ্ধারের পরে ছেলেটিকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এই ঘটনায় ‘জনতার আচরণ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শহরের চিকিৎসক তথা সমাজকর্মী অরুণাভ সেনগুপ্তের মতে, ‘‘এই ধরনের ঘটনা কিশোর-মনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। জনতা যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেয়।’’ স্কুল শিক্ষিকা নিবেদিতা আচার্যেরও মত, ‘‘ছেলেটি যদি ভুল করেও থাকে, সেটা সমাজেরই ভুল। আমাদের সচেতন ভাবে তা ঠিক করতে হবে।’’ আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের এসিপি (সেন্ট্রাল) অলোক মিত্র বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে ওই কিশোরকে কাউন্সেলিং করানোর কথা ভাবা যেতে পারে।’’