Advertisement
E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_04-05-26

পায়েসে কি তুলসীপাতাও ছিল? ঘুমের ওষুধের সঙ্গে আর কী মেশানো হয় শেষ খাবারে? দেখছে পুলিশ

হাসপাতাল থেকে দে পরিবারের দুই ভাই-ই দাবি করেছেন, সোমবার রাতে তাঁরা একসঙ্গে ঘুমের ওষুধ মেশানো পায়েস খেয়েছিলেন। পুলিশের অনুমান, তাতে তুলসীপাতাও মেশানো হয়ে থাকতে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৪৫
পায়েসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খেয়েছিলেন ট্যাংরার দে পরিবারের সদস্যেরা।

পায়েসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খেয়েছিলেন ট্যাংরার দে পরিবারের সদস্যেরা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার অনলাইন।

যত দিন যাচ্ছে, ট্যাংরাকাণ্ডের রহস্য আরও জটিল হচ্ছে। প্রণয় দে, প্রসূন দে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা একসঙ্গে শেষ বার কী খেয়েছিলেন? অনুসন্ধান করে দেখছে পুলিশ। আহত দুই ভাইয়ের দাবি, তাঁরা ছ’জন একসঙ্গে পায়েস খেয়েছিলেন। তাতে মেশানো ছিল ঘুমের ওষুধ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘুমের ওষুধ ছাড়াও আরও কিছু সেই পায়েসে মেশানো হয়েছিল। যা খেয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪ বছরের কিশোরী প্রিয়ম্বদার। পুলিশের অনুমান, পায়েসে মেশানো হয়েছিল তুলসীপাতা। তবে এই সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা। প্রণয়, প্রসূন এবং ওই পরিবারের কিশোর প্রতীপ এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কিশোরীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, তার পেটে যে খাবার ছিল, তা পুরোপুরি হজম হয়নি। সেই খাবারে হলুদ এবং সাদাটে কণিকা ছিল। ওষুধের গন্ধও ছিল। পায়েসে ঘুমের ওষুধ ছাড়া আর কী মেশানো হয়েছিল, কেনই বা মেশানো হয়েছিল, পুলিশ দেখছে। প্রথম থেকেই এই ঘটনায় বড় ভূমিকা নিয়েছে পায়েস। যে পায়েস খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে, তা কি দুই ভাইও খেয়েছিলেন? তাঁদের শরীরে পায়েসের প্রভাব পড়ল না কেন? কিশোর প্রতীপই বা ঘুম থেকে জেগে উঠল কী ভাবে? প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের অনুমান, পায়েস খেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন দুই বধূ রোমি এবং সুদেষ্ণা। সেই অবস্থায় তাঁদের হাতের শিরা এবং গলার নলি কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

গত বুধবার বাইপাসের ধারে অভিষিক্তা মোড়ে একটি মেট্রোর পিলারে ধাক্কা খায় প্রণয়দের গাড়ি। তাতে দুই ভাই এবং কিশোর ছিলেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, ট্যাংরায় তাঁদের বাড়িতে দুই বধূ এবং কিশোরীর দেহ পড়ে আছে। দেহগুলি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিন জনকেই খুন করা হয়েছে। দুই বধূর হাতের শিরা এবং গলার নলি কাটা অবস্থায় ছিল। কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরে। হাসপাতাল থেকে দুই ভাই দাবি করেছেন, তাঁরা সপরিবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ঘুমের ওষুধ পায়েসে মিশিয়ে খেয়েছিলেন সকলে। পরে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যেই গাড়ি নিয়ে পিলারে ধাক্কা মারেন। পুলিশ এই দাবিগুলির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছে।

কখন কী ঘটেছিল, খুনের কারণ কী, সব বিষয়ে দুই ভাইকে পূর্ণাঙ্গ জেরা করার ভাবনা রয়েছে তদন্তকারীদের। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হতে পারে।

সংক্ষেপে
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টের পরে অভিষিক্তা মোড়ের কাছে একটি স্তম্ভে ধাক্কা দিয়েছিল তাঁদের গাড়ি। প্রণয় এবং প্রসূন দাবি করেছিলেন, আত্মহত্যা করার জন্যই ওই পদক্ষেপ করেছিলেন তাঁরা। প্রণয়ের বয়ানও খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ।
  • সোমবার রাতে প্রসূনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর দাদা প্রণয় দে এবং প্রণয়ের কিশোর পুত্র প্রতীপ এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রতীপ জানিয়েছে, কাকা তাকেও খুন করার চেষ্টা করেছিলেন। মঙ্গলবার প্রসূনকে আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। ৬ মার্চ পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে থাকতে বলা হয়েছে।
unnatural death Tangra Tangra Murder Case Basil Leaves
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy