শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত চারচাকার গাড়িটি বুধবার রাতেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ বার একটি বাইকও উদ্ধার করল পুলিশ।
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় হত্যাকাণ্ডে একটি চারচাকার গাড়ি এবং দু’টি বাইক ব্যবহার হয়েছিল। চারচাকার গাড়িটি দিয়ে চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকানো হয়েছিল। জানা যাচ্ছে, সেটি অকুস্থলে ফেলে রেখেই বাইকে চেপে পালিয়ে যান দুষ্কৃতীরা। এ বার ওই দু’টি বাইকের মধ্যে একটি বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। অপরটির খোঁজ এখনও চলছে। শুভেন্দু জানান, উদ্ধার হওয়া বাইকটি মধ্যমগ্রামের অকুস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে একটি জায়গা থেকে পাওয়া গিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও অঞ্চলের কথা জানাননি শুভেন্দু। পুলিশ সূত্রেও এ বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে কিছু জানা যায়নি।
চন্দ্রনাথের খুনের খবর পেয়ে রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ডিজি জানিয়েছিলেন, অপরাধে ব্যবহৃত একটি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী সেটি শিলিগুড়ির। তবে নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
চন্দ্রনাথ যে গাড়িতে ছিলেন এবং আততায়ীদের ফেলে যাওয়া গাড়ি— দু’টির থেকেই বুধবার রাতে নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা। ওই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। তাতে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি রয়েছেন সিআইডি-র আধিকারিকেরা। বৃহস্পতিবার সকালে সিআইডি আধিকারিকদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ডিজি প্রবীণ কুমারও ঘটনাস্থলে পৌঁছোন বৃহস্পতিবার সকালে।
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে গ্রামের বাড়ি হলেও চন্দ্রনাথ এখন থাকতেন মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার এক আবাসনে। বুধবার রাতে ওই আবাসনের অদূরেই তাঁর উপর হামলা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে ওই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে।