Advertisement
E-Paper

অনুপ্রবেশকারীদের আটক শিবিরের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে, তবে কয়েকটি জেলায় এখনও পৌঁছোয়নি নির্দেশিকা

নবান্নের নির্দেশ অনুসারে, সন্দেহভাজনদের আটক করে এ সব কেন্দ্রে ৩০ দিন রাখা যাবে। যাঁরা এর আগে ধরা পড়েছিলেন এবং বন্দি ছিলেন, যাঁদের দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাঁদেরও সেখানে রাখা যাবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ২১:৫৯
অসমের গোয়ালপাড়ায় আটক শিবির তৈরির কাজ চলছে ২০২০ সালে।

অসমের গোয়ালপাড়ায় আটক শিবির তৈরির কাজ চলছে ২০২০ সালে। ছবি: শাটারস্টক।

কোথাও জায়গা দেখার কাজ শুরু হয়েছে। কোথও চলছে আলোচনা। কোথাও আবার প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশ এসে পৌঁছোয়নি। কোনও জেলার প্রশাসন আবার এই নিয়ে মুখই খুলতে চায়নি। বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য নবান্ন ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (আটক শিবির) তৈরির নির্দেশ জারির এক দিন পরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ছবিটা এমনই।

নবান্নের নির্দেশ অনুসারে, সন্দেহভাজনদের আটক করে এ সব কেন্দ্রে ৩০ দিন রাখা যাবে। যাঁরা এর আগে ধরা পড়েছিলেন এবং বন্দি ছিলেন, যাঁদের দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাঁদেরও সেখানে রাখা যাবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এ পরিস্থিতিতে অনেকের স্মৃতিতেই ফিরে এসেছে অসমের ডিটেনশন কেন্দ্রের কথাও।

দক্ষিণবঙ্গ

নবান্নের এই নির্দেশ জারির পরের দিন, সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক শিবিরের জন্য জায়গা দেখার কাজ শুরু হয়েছে। মেদিনীপুর এবং খড়্গপুর শহরে দু’টি জায়গা আপাতত দেখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হুগলিতে এখনও এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে খবর। পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, আটক শিবিরের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা এসে গিয়েছে। আটক শিবির তৈরির প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

উত্তরবঙ্গ

দার্জিলিঙের জেলাশাসককে আনন্দবাজার ডট কমের তরফে ফোন করা হলে তিনি জানান, এখনও আটক শিবির নিয়ে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। প্রসঙ্গত, দার্জিলিঙের অধীনে রয়েছে ফাঁসিদেওয়া। সেখানে মুড়িখাওয়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কোনও কাঁটাতার নেই। ওই অংশ দিয়ে মহানন্দা নদী বয়ে গিয়েছে। সেখান দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগও উঠেছে। তাই ফাঁসিদেওয়া বিশেষ নজরে বলে খবর। জলপাইগুড়ি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক শিবির নিয়ে নতুন কোনও নির্দেশিকা আসেনি। তবে জলপাইগুড়ি সদরের সাউথ বেরুবাড়িতে বহু দিন ধরে একটি আটক শিবির রয়েছে। ছিটমহলেও অনেক দিন ধরেই রয়েছে কেন্দ্র। কোচবিহার জেলা প্রশাসনের তরফে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। জেলাশাসককে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। জেলা পুলিশ সুপার যশপ্রীত সিংহ জানান, সংবাদ মাধ্যমের সামনে এ নিয়ে কিছু বলা যাবে না। মালদহে আটক শিবির চালু হবে বলে খবর। ইংরেজবাজার শহরের চন্দনপার্কে জেলার একমাত্র আটক শিবির করার ভাবনা রয়েছে প্রশাসনের। সেখানে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ১২ জন পুলিশ, তিন জন সিভিল ডিফেন্স, তিন জন সিভিক পুলিশ এবং রাঁধুনি নিযুক্ত করা হবে বলে খবর। দক্ষিণ দিনাজপুর প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক শিবির তৈরি করার নির্দেশ এসেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিক স্তরে কোনও কাজ শুরু হয়নি। সোমবার দুপুরে সাংসদ সুকান্ত মজুমদার তাঁর বাসভবনে বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করার পরে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী (শুভেন্দু অধিকারী) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত যাঁরা, তাদের আটক শিবিরে রাখা হবে। বিএসএফের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশ ফেরত পাঠানো হবে। এখন থেকে কোনও বাংলাদেশি গ্রেফতার হলে তাঁকে এই আটক শিবিরের মাধ্যমেই তুলে দেওয়া হবে বিএসএফের হাতে।’’

অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশিকা আগেই জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সম্প্রতি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, পূর্বতন সরকার কেন্দ্রের সেই নির্দেশ পালন করেনি। তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে ওই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হয়েছে। সি‌এএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নন যাঁরা, এ বার তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে। বিএসএফ তাঁদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করবে। শুভেন্দুর ঘোষণার পর রাজ্য সরকারের তরফেও নির্দেশিকা জারি করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গুয়াহাটি থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে মাটিয়া ট্রানজ়িট শিবির নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। সেখানে যে ভাবে আটকদের রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃত, অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য অসমেই প্রথম শিবির গড়ে উঠেছিল। এ বার তা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেও।

২০০৮-০৯ সালে ছ’টি অস্থায়ী শিবির তৈরি হয়েছিল অসমে। ২০২১ সালে ডিটেনশন সেন্টারের নাম বদলে ট্রানজ়িট সেন্টার রাখা হয়। অসম হাই কোর্টের নির্দেশের পরে ২০২৩ সালে আটকদের মাটিয়া শিবিরে পাঠানো হয়। ২০ বিঘা জমির উপরে সেখানে রয়েছে ১৫টি ভবন। প্রতিটি ভবনে থাকতে পারেন ২০০ জন। শিবিরে মোট ৩০০০ জন থাকতে পারেন। একটি সূত্র বলছে, তিন মাস আগে ৪০ জন আটক হয়ে সেখানে ছিলেন। সেই শিবিরে পরিবেশন করা খাবার, পরিবেশ নিয়ে উঠেছে অনেক অভিযোগ। ২০২৪ সালে ১০০ জন রোহিঙ্গা এবং চিনা অনুপ্রবেশকারী সেই পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে অনশন শুরু করেন। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালে জানিয়েছিল, ঘোষিত বিদেশিদের মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। তিন বছর আটক থাকার পরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। পরে সেই সময়সীমা ২ বছর করা হয়। মুক্তির পরে তাঁদের দেশ থেকে বার করে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকারের নীতিই হল, ওই বিদেশিদের দেশছাড়া করা।

Nabanna
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy