শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গল রক্ষা করতে এ বার কড়া পদক্ষেপ নিল বন দফতর। সোমবার বুলডোজ়ার চালিয়ে খনন করা হল জঙ্গলের ভিতরে চারচাকা গাড়ি প্রবেশের মাটির রাস্তা। তার জেরে ওই রাস্তা আর গাড়ি চলাচলের যোগ্য রইল না। পাশাপাশি, রাস্তার ধারে বসানো হোটেল ও রিসর্টের বিজ্ঞাপনী সাইনবোর্ডও উপড়ে ফেলা হয়। বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, গাড়ি যাতায়াত, প্লাস্টিক দূষণ এবং বেআইনি নির্মাণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সোনাঝুরির প্রাকৃতিক পরিবেশ।
সোনাঝুরির খোয়াই হাট নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করে অভিযোগ জানিয়েছেন, বন দফতরের জমিতে কোনও বাণিজ্যিক হাট বসার নিয়ম নেই। অথচ বছরের পর বছর ধরে সেখানে ‘বেআইনি ভাবে’ হাট চলছে। মামলার রায় এখনও ঘোষণা হয়নি।
বন দফতরের রেঞ্জার জ্যোতিষ বর্মণের নেতৃত্বে সোমবার সকাল থেকে অভিযান চালানো হয়। উপস্থিত ছিলেন শান্তিনিকেতন থানার ওসি অনন্যা দে। হাট কমিটির সদস্য সুকেশ চক্রবর্তী এবং হোটেল ব্যবসায়ী গণেশ ঘোষ বন দফতরের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “জঙ্গলে চারচাকা গাড়ি প্রবেশ বন্ধ করা খুবই ভাল উদ্যোগ।”
আরও পড়ুন:
স্থানীয়েরা জানিয়েছেন, এক সময় শুধু শনিবার আদিবাসী শিল্পী এবং কলাভবনের পড়ুয়াদের তৈরি সামগ্রী নিয়ে ছোট পরিসরে হাট বসত। পরে সেই হাটের পরিধি বৃদ্ধি পেতে পেতে প্রতি দিনের বাণিজ্যিক হাটে পরিণত হয়। অভিযোগ, বহিরাগত ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায় হাট এবং অর্থ লেনদেন নিয়েও ওঠে প্রশ্ন। পাশাপাশি, বন বিভাগের জমি দখল করে একাধিক হোটেল-রিসর্ট গড়ে ওঠার অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে।