চিকিৎসার গাফিলতিতে সাত বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে গিয়ে সে কথা মেনে নিলেন স্থানীয় বিধায়ক। রাজ্য সরকারের তরফে মৃতের পরিবারের হাতে চার লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। দোষীদের শাস্তি হবে বলে কথা দেন বিধায়ক।
কয়েক দিন আগে সর্পদংশনে মৃত্যু হয় সাত বছরের এক শিশুর। বিষয়টি নিয়ে পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিজন ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহেলাতেই মারা গিয়েছে শিশুটি। অন্য দিকে, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং এক মহিলা চিকিৎসককে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। দফায় দফায় বিক্ষোভ, রাজ্য সড়ক অবরোধ থেকে পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো, সব কিছুই ঘটে।
ইতিমধ্যে শিশুমৃত্যুর তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য দফতর। ‘নিগৃহীত’ চিকিৎসক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতে রাজ্য সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চার লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন স্থানীয় বিধায়ক ময়না মুর্মু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্তম। জেলাশাসক জানিয়েছেন, শিশুটির মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক। স্থানীয়েরা যে এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির ‘বেহাল দশা’র অভিযোগ করেছেন, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। বিধায়ক অবশ্য সাফ বলেন, ‘‘চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। সেটা তদন্তে উঠে আসছে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। দুর্গাপুরের বৈঠকে ঘটনার কথা আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। রাজ্য সরকার পরিবারের পাশে রয়েছে।’’
প্রশাসনের সঙ্গে কথাবার্তার পর আশাবাদী মৃতের পরিবার। মৃত শিশুর জেঠু কমল গোপ বলেন, ‘‘আশা করছি, রাজ্য সরকার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’’ তিনি অভিযোগ করেন মৃত্যুর কারণ হিসাবে প্রথমে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ এবং পরে ‘দুর্ঘটনায় মৃত্যু’ এবং শেষে ‘সর্পদংশনে মৃত’ বলে লেখা হয়েছে।’’