স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) দেওয়া ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের তালিকায় নাম ছিল না আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিন্ময় মণ্ডলের। এ বার ১৫,৪০৩ জনের সেই তালিকায় নাম যুক্ত হল তাঁর। সংশোধিত তালিকায় চিন্ময় ছাড়াও নাম রয়েছে আরও কয়েক জন শিক্ষকের। শীঘ্রই ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের সকলের নাম যুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে আশাবাদী চাকরিহারারা।
সোমবার চিন্ময় বলেন, ‘‘আজ থেকে আবার যে তালিকা স্কুলগুলিকে পাঠানো হচ্ছে, সেই তালিকায় আমার নাম রয়েছে। তার সঙ্গে আরও বেশ কয়েক জনের নাম এসেছে। আশা করছি, আগে যে সব যোগ্য বাদ পড়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম চলে আসবে নতুন তালিকায়।’’
গত বুধবার এসএসসির প্রকাশিত ‘যোগ্য’দের তালিকায় থেকে নাম বাদ গিয়েছিল চিন্ময়ের। বৃহস্পতিবার সে সংক্রান্ত ব্যাখ্যাও দেন তিনি। এ নিয়ে এসএসসির চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের সঙ্গে কথা বলার পর চিন্ময় জানান, কমিশনের ভুলেই তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। শুধু তাঁর নয়, ‘যোগ্য’ বলে নিজেদের দাবি করছেন, এমন অনেক শিক্ষকের নামই এসএসসির নতুন তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানান চিন্ময়। চিন্ময় বলেন, ‘‘এসএসসির তালিকায় আমাদের অনেকের নাম নেই। এটা এসএসসির ভুল। ভুলটা ২০১৮-১৯ সালে হয়েছিল। আমার নামের পাশে ‘নন-জয়েন্ড’ (চাকরিতে যোগ দেওয়া হয়নি) বলে লেখা আছে। সেই কারণেই নাম আসেনি তালিকায়।’’ শুধু তা-ই নয়, এই বাদ পড়া তালিকায় ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের’ প্রায় ৪০০ জন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
এর পরেই ‘ভুলে’র ব্যাখ্যা দেয় কমিশন। জানানো হয়, যাঁরা পরে কাজে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের তথ্য আর সার্ভারে আপডেট করা হয়নি। সে কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। চিন্ময়-সহ বাকি শিক্ষকদের কাছ থেকে এই সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে যাচাই করে নতুন তালিকা আবার ডিআইদের পাঠানো হবে বলে জানায় এসএসসি। সেই সংশোধিত তালিকাই প্রকাশিত হল ছ’দিন পর। তবে নতুন তালিকায় সকলের নাম রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
রাজ্যের তরফে আগেই ‘অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত’ বা ‘দাগি’ নন, এমন ১৭ হাজার ২০৬ জন শিক্ষকের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সেই তালিকা সুপ্রিম কোর্টেও জমা দেয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। গত বুধবার সেখান থেকে বাদ যায় আরও ১৮০৩ জনের নাম। পর্ষদ জানিয়েছে, ওই ১৮০৩ জনের ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র-সহ একাধিক বিষয়ে সমস্যা রয়েছে। তাঁদের নাম বাদ দিয়ে নতুন তালিকায় ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ১৫,৪০৩। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই শিক্ষকেরা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারবেন এবং বেতন পাবেন।
অন্য দিকে, ওএমআরে গলদ থাকায় ‘যোগ্য’দের তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, সোমবার সকালে হাজরা মোড়ে তাঁরা নতুন করে আন্দোলনে শামিল হন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে কালীঘাটে তাঁর বাড়ির দিকে মিছিল করে যাচ্ছিলেন চাকরিহারারা। কিন্তু যতীন দাস পার্কের কাছে হাজরা মোড়ে তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। প্রতিবাদে সেখানেই বসে পড়েন তাঁরা। কেউ কেউ গার্ডরেল ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন। গোটা চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশের সঙ্গে একপ্রস্ত ধস্তাধস্তির পর বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ২০১৬ সালের এসএসসিতে নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। বলল, পুরো প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হয়েছে। ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
- এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কলকাতা হাই কোর্ট এই সংক্রান্ত শুনানির পর ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়াই বাতিল করে দিয়েছিল।
- রাজ্যের ২৬ হাজার চাকরি (আদতে ২৫,৭৫২) বাতিল করে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
-
৭,২৯৩ জন দাগিরই পুরো তালিকা প্রকাশ করতে হবে! গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি মামলায় এসএসসি-কে নির্দেশ হাই কোর্টের
-
নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে ‘দাগিদের’ বাদ দেওয়ার রায়কে চ্যালেঞ্জ, ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য এবং এসএসসি
-
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সংশোধন এসএসসির, জেনারেলের মতোই আবেদন করতে হবে ওবিসিদের
-
আদালত অবমাননার আশঙ্কা, তাই নির্দেশ মতো পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি আইনি লড়াই চলবে, বললেন মমতা
-
উত্তরপত্রে কারচুপি থাকলে পরীক্ষায় বসতে পারবেন না, ‘অযোগ্য’দের আর্জি খারিজ করে জানাল সুপ্রিম কোর্ট