পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া দুই জেলার মোট ২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৮৯ জন। তবে সংখ্যার নিরিখে পুরুলিয়ায় প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। এই জেলার ন’টি আসনে প্রার্থী ৮৯ জন। বাঁকুড়ায় ১২টি আসনে প্রার্থী হয়েছেন ১০০ জন।
বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল ও বামেরা তো আছেই। দুই জেলায় এমন কিছু দলের প্রার্থীরাও রয়েছেন, যে সবের নাম অতীতে এখানে সে ভাবে শোনাই যায়নি। এ ছাড়া বরাবরের মতোই দুই জেলায় ভাল সংখ্যায় নির্দল প্রার্থীও আছেন।
প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, পুরুলিয়া জেলার সব থেকে বেশি প্র্রার্থী আছে পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে (১৩ জন)। অন্যা বিধানসভাগুলিতে আট-দশ বা এগারো জন করে প্রার্থী রয়েছেন। বাঁকুড়া জেলার সব থেকে বেশি প্রার্থী আছে রানিবাঁধ বিধানসভায় (১৩ জন)। সব থেকে কম প্রার্থী আছে শালতোড়া বিধানসভায় (ছয় জন)।
বিধানসভা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে ৩০ মার্চ। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। বুধবার প্রশাসন চূড়ান্ত ভাবে প্রার্থীদের নাম জানায়।
তবে দুই জেলার পাঁচ আসনে প্রার্থী দিয়ে কিছুটা চমক দিয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী নিলম্বিত বিধায়ক হুমায়ন কবীরের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’। বাঁকুড়ার ছাতনা, রানিবাঁধ, রাইপুর, বিষ্ণুপুর এবং পুরুলিয়ার মানবাজারে প্রার্থী দিয়েছে এজেইউপি। মাত্র কয়েকমাস আগে বিক্ষুব্ধ বিধায়কের তৈরি করা দল কী ভাবে দুই জেলার পাঁচ বিধানসভায় প্রার্থী দিল, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সেখানকার শাসকদলের কর্মীদের মধ্যে। তবে এজেইউপির প্রার্থী দেওয়া নিয়ে তাঁরা আদৌও চিন্তিত নন বলে দাবি সেখানকার তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রতিবারই নতুন কিছু দল বিধানসভায় প্রার্থী দেয়।অতীতে দুই জেলাতেই উত্তরপ্রদেশের দল হিসাবে পরিচিত বহুজন সমাজবাদী পার্টি প্রার্থী দিয়েছিল। এ বারেও পুরুলিয়ার বেশ কয়েকটি আসনে তাঁদের প্রার্থী আছে। ‘ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা’ বাঘমুণ্ডি ও জয়পুরে প্রার্থী দিয়েছে।
তবে এতদিন নাম না শোনা ‘রাষ্ট্রীয় লোকজনশক্তি পার্টি’ দুই জেলারই কয়েকটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাঁকুড়ার ‘রাইপুরে গান্ডোয়ানা গণতন্ত্র পার্টি’, পুরুলিয়ার দুই আসনে ‘ভারতীয় মানবধিকার পার্টি’, বলরামপুরে ‘আম্বেদকরাইট পার্টি’, ‘রাষ্ট্রীয় আমজনসেবক পার্টি’ প্রার্থী দিয়েছে। এলাকার রাজনৈতিক মহলের মতে,ওই সমস্ত দলের কর্মসূচি অতীতে জেলাতে দেখাই যায়নি।এমনকি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত লোকজনও সেই দলগুলির নাম শোনেনি বলেই দাবি। এই দলগুলি ভোটে কেমন প্রভাব ফেলে কৌতূহল রাজনৈতিক মহলের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)