×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১১ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

গলায় অন্তর্বাস পেঁচিয়ে কিশোরী খুন, জুতোর সূত্র ধরে জালে দুই কিশোর

নিজস্ব সংবাদদাতা
মেজিয়া ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ০২:১৪
স্নান সেরে কিশোরী না ফেরায় বাড়ির লোক খোঁজ করতে বেরিয়েছিলেন।

স্নান সেরে কিশোরী না ফেরায় বাড়ির লোক খোঁজ করতে বেরিয়েছিলেন।

উত্ত্যক্ত করায় প্রতিবাদ করেছিল মেয়েটি। সেই আক্রোশেই নবম শ্রেণির পড়ুয়া কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। বাঁকুড়ার মেজিয়া থানা এলাকায় কিশোরী খুনের অভিযোগে দুই কিশোরকে গ্রেফতারের পরে এমনই দাবি করছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে বাড়ির কাছে পুকুরে স্নান করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই ছাত্রী। পরে পুকুরের কাছে একটি ঝোপের ভিতর তার মুখে রুমাল বাঁধা দেহ দেখতে পাওয়া যায়। তদন্তে নেমে রাতে পুলিশ একটি জুতোর সূত্র ধরে নিহতের গ্রামেরই দুই নাবালককে গ্রেফতার করে। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, “ধৃত দুই নাবালক জেরায় মেজিয়ায় ছাত্রী খুনের ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। তদন্ত চলছে।”

তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, ধৃত অষ্টম শ্রেণির দুই পড়ুয়া জেরায় তাদের কাছে স্বীকার করেছে, তারা উত্ত্যক্ত করায় মেয়েটি প্রতিবাদ করেছিল। সেই রাগেই দুই বন্ধু শুক্রবার স্কুল ছুটির পরে মেয়েটিকে রাস্তায় একা দেখতে পেয়ে তার মুখে রুমাল গুঁজে দিয়ে পাশের ঝোপে তুলে নিয়ে যায়। তারপর মেয়েটির অন্তর্বাস দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে।

Advertisement

আরও পড়ুন: সদ্য বিবাহিতাকে গ্রেফতারের দাবিতে থানায় বিক্ষোভ, জখম ৫ পুলিশ

তবে, ধর্ষণের অভিযোগ ধৃতেরা মানতে চায়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মেয়েটির দেহ শনিবার বাঁকুড়া মেডিক্যালে ময়না-তদন্ত করানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা জানা যাবে। ধৃত এক নাবালকের মা বলেন, “আমরা কিছুই জানি না। দোষ করে থাকলে আইনে যা হওয়ার তাই হবে।” এ দিন ধৃতদের বাঁকুড়ার জুভেনাইল আদালতে তোলা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের দু’দিন বাঁকুড়ার হোমে রাখতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফিরল জওয়ানের দেহ, শেষ ছোঁয়া পেল এক মাসের সন্তান

শুক্রবার কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও স্নান সেরে কিশোরী না ফেরায় বাড়ির লোক খোঁজ করতে বেরিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় ঝোপের ভিতর তার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী দেহ আটকে পুলিশ-কুকুর দিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ পুলিশ-কুকুর নিয়ে গিয়ে এলাকায় তল্লাশি চালানোর পরে দেহ উদ্ধার করা হয়। যদিও পুলিশ-কুকুর ঘটনাস্থলের চারপাশ ঘুরে একটি পুকুর পর্যন্ত গিয়েই থমকে যায় বলে জানা গিয়েছে। রাতেই কিশোরীর বাবা থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন।

কী ভাবে ধরা পড়ল দুই কিশোর? পুলিশ জানাচ্ছে, ধৃতদের মধ্যে এক জনের জুতোই তাদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে।

ওই কিশোরী নিখোঁজ থাকার সময়ে ঝোপের পাশে তার বালতি ও নতুন এক জোড়া জুতো পড়ে থাকতে দেখেছিলেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। পরে অবশ্য সে দু’টিই উধাও হয়ে যায়। গ্রামেরই কেউ কেউ পুলিশকে জানিয়েছিলেন, একটি ছেলেকে তাঁরা জুতো জোড়া তুলে নিয়ে যেতে দেখেছিলেন। পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশের দাবি, ওই ছেলেটির বাড়িতে গিয়ে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, জুতোটি তার অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া দাদার। সেই ছেলে জুতো পরেই বেরিয়ে গিয়েছে।

খোঁজ করে রাতেই পাশের গঙ্গাজলঘাটি থানা এলাকার একটি গ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রথমে ছেলেটি দাবি করেছিল, বহিরাগতেরা খুন করেছে। পরে সে জেরায় স্বীকার করে, এক বন্ধুকে নিয়ে ওই কিশোরীকে খুন করেছে। তারপরে সেই সঙ্গীকেও ধরে পুলিশ।

নিহত ছাত্রীর এক আত্মীয় অভিযোগ করেন, ‘‘ওই ছেলে দু’টি এলাকায় নানা অসামাজিক কাজে যুক্ত থাকত। মেয়েটিকে উত্ত্যক্তও করেছিল বলে শুনেছি। ওদের কড়া শাস্তি চাই।’’



Tags:
মেজিয়া Mejia Murder

Advertisement