প্রশাসনের কর্তারা গ্রামে যেতে সুর নরম হল মোড়লের। নিজের ‘ফতোয়া’ ফিরিয়ে সকলে মিলেমিশে থাকার কথাও শোনা গেল তাঁর মুখে। শুক্রবার সকালে এলাকা ঘুরে দেখা গেল আর পাঁচটা দিনের মতো ছন্দে ফিরেছে বোলপুরের শ্রীনিধিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ সিউর গ্রামের পরিবারগুলি। একঘরে
করে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসামাত্র পুলিশ, প্রশাসন পদক্ষেপ করায় স্বস্তিতে তাঁরা।
বুধবার সালিশি সভা বসিয়ে এই গ্রামের ১২টি আদিবাসী পরিবারকে একঘরে করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মোড়লের বিরুদ্ধে। গ্রামের কারও সঙ্গে কথা বলা কিংবা কল থেকে পানীয় জল নেওয়া ও পুকুরের জল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ‘ফতোয়া’ জারি হয় বলে অভিযোগ। বোলপুর শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরের গ্রামের এমন ঘটনায় শোরগোল পড়ে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরো ঘটনা জানতে গ্রামে যান বিডিও (সাঁইথিয়া) সাথী দত্ত মুখোপাধ্যায় সহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। ১২টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি মোড়লের সঙ্গেও কথা বলেন প্রশাসনের কর্তারা। প্রশাসন সূত্রের খবর, মোড়লকে নিদান ফিরিয়ে নিতে বলা হয়। এরপরেই গ্রামের সকলের সামনে মোড়ল শরৎ হেমরম নিদান তুলে নিয়ে সকলে মিলে একসঙ্গে থাকার কথা বলেন। একই সঙ্গে বছরখানেক আগে গ্রামের যে যুবককে নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত, তার পরিবারকেও সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার কথা বলা হয়।
শুক্রবার গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, যে পরিবারগুলিকে একঘরে করে দেওয়া হয়েছিল তারা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। কাউকে দেখা গেল ধান সিদ্ধ করার জন্য কল থেকে জল নিয়ে আসতে, আবার কাউকে দেখা গেল সকলকে নিয়ে কী ভাবে মিলেমিশে থাকা যায় সেই আলোচনা করতে। একটি পরিবারের সদস্য বলেন, “একঘরে করে দেওয়ায় আমরা খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু, প্রশাসন যে ভাবে পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের মূলস্রোতে ফেরাল তাতে আমরা খুশি।” একই কথা শোনা গিয়েছে আরও অনেকের মুখে।
যাঁকে নিয়ে বিতর্ক, সেই মোড়ল শরৎ হেমরম বলেন, “প্রশাসনের কাছে আমি আমার ভুল স্বীকার করেছি। প্রশাসনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা গিয়েছে। এ বার থেকে গ্রামের কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে সবার সঙ্গে আলোচনা করেই করা হবে।’’ জেলা আদিবাসী গাঁওতার সম্পাদক রবীন সরেন জানাচ্ছেন, সংগঠনের তরফে মোড়লকে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করা হয়েছে। এ দিন ওই গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথাও বলেন আদিবাসী
গাঁওতার কয়েক জন প্রতিনিধি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেশ কিছু আদিবাসী সংগঠনের ওই গ্রামে যাওয়ার কথাও রয়েছে।