দিনভর আন্দোলনের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি মাধ্যমে স্নাতকোত্তর পঠন পাঠনের অনুমতি দিল রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতর। সাঁওতালি মাধ্যমে স্নাতকোত্তর স্তরের পঠনপাঠন চালুর দাবিতে বুধবার সকাল থেকে আন্দোলনে নামে ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল ও সাঁওতালি মাধ্যমের পড়ুয়ারা। বেলা ১১টা থেকে অবরোধ করে রাখা হয় বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কও অবরোধ করে রাখা হয়। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি মাধ্যমে স্নাতকোত্তর স্তরের পঠনপাঠন চালু না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবরোধ বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলন শুরু হতেই নড়েচড়ে বসে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সাঁওতালি মাধ্যমের পঠনপাঠন শুরুর তোড়জোড় শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি পাঠিয়ে অনুমতি চাওয়া হয়। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তোড়জোড় শুরু হতেই বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা। সন্ধ্যার মুখে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে অনুমতিপত্র এসে পৌঁছয় বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত এই শিক্ষা বর্ষেই সাতটি বিষয়ে সাঁওতালি মাধ্যমে পঠনপাঠন শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে।
তড়িঘড়ি উচ্চ শিক্ষা দফতর বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি মাধ্যমে পঠন পাঠনের অনুমতি দেওয়ায় যারপরনাই খুশি আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারী ভারতা জাকাত মাঝি পারগানা মহলের নেতা বাবুনাথ টুডু বলেন, ‘‘আমাদের ধারণা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাফিলাতির কারণেই এই অনুমতি আটকে ছিল। কিন্তু এদিন আন্দোলন শুরু হতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেন। আমরা খুশি যে, শেষ পর্যন্ত উচ্চ শিক্ষা দফতর অনুমতি দিয়েছে। এত দিন চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সাঁওতালি মাধ্যমের পড়ুয়ারাও এই অনুমতিতে নিশ্চিন্ত হয়েছে।’’