গণনাপত্রে নামের বানানে গরমিল ছিল। তাই এসআইআর শুনানির নোটিস পৌঁছেছে বাড়িতে। স্ত্রীর নামে সেই নোটিস পেয়ে আতঙ্কে মৃত্যু হল স্বামীর। পরিবারের দাবি তা-ই। ফের এসআইআর আতঙ্কে প্রাণহানির অভিযোগ মুর্শিদাবাদে।
ডোমকলের বাসিন্দা জয়নাল আনসারির বয়স ৩৪ বছর। নিম্নবিত্ত পরিবারের কারও কাছে মোবাইল নেই। তা-ই ফোন না থাকায় শুনানিতে যাওয়া স্ত্রীর কোনও খবর না পেয়েই এই চরম পরিণতি বলে দাবি পরিবারের।
প্রতিবেশীরা বলছেন, ডোমকলের ফতেপুরহাটের বাসিন্দা জয়নাল কর্মসূত্রে স্ত্রী রেখা শেখকে নিয়ে হাওড়ায় থাকতেন। সম্প্রতি রেখার নামে একটি শুনানির নোটিস আসে গ্রামের বাড়িতে। ফর্মে নামের বানান ভুলের জন্য তলব। গত সপ্তাহে শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দেন রেখা। জমা দেন প্রয়োজনীয় নথিপত্র। আর হাওড়া যেতে পারেননি। কিন্তু শুনানি শেষে স্ত্রী কোনও বিপদে পড়েছেন কি না, এই ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জয়নাল।
আরও পড়ুন:
পরিবার সূত্রে খবর, স্ত্রী নোটিস পাওয়া ইস্তক জয়নালের আশঙ্কা, রেখাকে হয়তো বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে রাষ্ট্র। চিন্তায় খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল। হাওড়ায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন মারা গিয়েছেন তিনি। শনিবার জয়নালের দেহ ডোমকলের বাড়িতে নিয়ে আসা হলে কান্নায় ভেঙে পড়ে গ্রাম। স্বামীকে হারিয়ে রেখা বলেন, “শুনানির চিঠি আসার পর থেকেই ও খালি বলত, ‘তোমাকে কি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে? ওরা আমাদের আলাদা করে দেবে?’ আমি বারবার বুঝিয়েছিলাম, যে তেমন কিছু হবে না। ডোমকলে গিয়ে নথিপত্র জমাও দিলাম। কিন্তু খবরটা ওকে দিতে পারলাম না। মানুষটা চলে গেল!”