Advertisement
E-Paper

বিজেপির বিক্ষুব্ধদের তৃণমূলে যোগ

রবীন্দ্রভবনে সভায় আসা লোকজনের সকলের জায়গা হয়নি। বাইরেও ছিল থিকথিকে ভিড়।

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:৪১
হাতেহাতে: পুরুলিয়া রবীন্দ্রভবনে শনিবার। ছবি: সুজিত মাহাতো

হাতেহাতে: পুরুলিয়া রবীন্দ্রভবনে শনিবার। ছবি: সুজিত মাহাতো

বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি-সহ এক ঝাঁক বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী শনিবার পুরুলিয়ায় তৃণমূলে যোগ দিলেন। সেই সঙ্গে জেলার নানা প্রান্তে থাকা পুরনো তৃণমূল কর্মীরাও দলের পতাকা হাতে তুলে নেন। পুরভোটের মুখে এতে তাদের সংগঠন আরও মজবুত হল বলে দাবি করলেন শাসকদলের নেতারা। যদিও তা নিয়ে কটাক্ষ করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

এ দিন গেরুয়া শিবির ছেড়ে বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিকাশ মাহাতো, জয়পুরের তিন বারের ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক ((পরে বিজেপিতে যোগ দেন) বিন্দেশ্বর মাহাতো, গত বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নগেন্দ্র ওঝা, গত লোকসভা ভোটে শিবসেনার প্রার্থী রাজীব মাহাতো, বিজেপির প্রাক্তন যুব মোর্চা ও তফসিলি মোর্চার জেলা সভাপতি পরেশ রজক, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জয়পুরের সম্পাদক টিঙ্কু সিংহ-সহ একাধিক নেতা এ দিন পুরুলিয়া রবীন্দ্রভবনে এসে তৃণমূলে যোগ দেন।

রবীন্দ্রভবনে সভায় আসা লোকজনের সকলের জায়গা হয়নি। বাইরেও ছিল থিকথিকে ভিড়। দলে যোগ দেওয়া গেরুয়া শিবিরের ও দলের পুরনো কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন জেলার পর্যবেক্ষক তথা মন্ত্রী মলয় ঘটক, জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, জেলা বরিষ্ঠ সহ-সভাপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

শান্তিরামবাবু বলেন, ‘‘এক সময়ে যাঁরা বিভ্রান্ত হয়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা মনে করছেন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের হাত শক্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আমরাও সাদরে তাঁদের গ্রহণ করলাম।’’ মলয়বাবু বলেন, ‘‘যাঁরা এলেন, তাঁরা যাতে সম্মানের সঙ্গে দলে কাজ করতে পারেন, সেটা আমরা অবশ্যই দেখব। যাঁরা এলেন, তাঁদের বলব, নিজেদের এলাকার অন্য দলের কর্মীদেরও নিয়ে আসুন।’’

বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিকাশবাবু বলেন, ‘‘আমি আগে তৃণমূলেই ছিলাম। মতান্তর হওয়ায় কিছু দিনের জন্য বিজেপিতে গিয়েছিলাম। নিজের দলে ফিরে স্বস্তি পেলাম।’’ নগেন্দ্রবাবুর দাবি, ‘‘বছরখানেক আগে আমরা কয়েকজন বিজেপির একটি কর্মসূচিতে বেরিয়ে সভাস্থলে থাকা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা ও রাজীবের মূর্তিতে মালা দিয়েছিলাম। সে জন্য দল সাসপেন্ড করে। আবেদন করলেও দলে ফেরানো হয়নি। তাই মানুষের কাজ করতে তৃণমূলে এলাম।’’

মানবাজার ১ ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো জানান, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে তিনি দল করছেন। এক সময়ে দলের ব্লক সভাপতিও হয়েছিলে। তাঁর কথায়, ‘‘কয়েকবছর আগে হঠাৎ দল আমাকে সরিয়ে দেয়। আমার সঙ্গে সম্পর্কও রাখেনি। এমনকি, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিটও দেয়নি। নির্দল থেকে জিতেছিলাম। সুজয়বাবু ডাকায় মান-অভিমান ভুলে ফেরত এলাম।’’

জেলা বিজেপি সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘যাঁরা তৃণমূলে গিয়েছেন, তাঁদের অনেককেই আগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাঁদের সঙ্গে দলের যোগও নেই। আগেই আমরা জানিয়েছিলাম, তৃণমূল ওঁদের দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচার করাচ্ছে। এ দিনের ঘটনায় আমাদের সেই অভিযোগই প্রমাণিত হল।’’ বিন্দেশ্বরবাবু সম্পর্কে বিদ্যাসাগরের প্রতিক্রিয়া, উনি দীর্ঘদিন দলে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ইদানীং ফরওয়ার্ড ব্লকে যোগাযোগ করছিলেন।

এ দিন বড় জমায়েত করার জন্য পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে সভা করার প্রস্তুতি নিয়েছিল তৃণমূল। শুক্রবার সেখানে মঞ্চ বাঁধার কাজও শুরু হয়। কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রকাশ্যে মাইক বাজিয়ে সভা করা যাবে না বলে পুলিশের তরফে জানানোয় তা রবীন্দ্রভবনে সরানো হয়।

এ দিন রবীন্দ্রভবনের অনুষ্ঠানে দলের বরিষ্ঠ সহ-সভাপতি বলেন, ‘‘ট্যাক্সি স্ট্যন্ডে সভা করার কথা থাকলেও মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য পুলিশ আমাদের অনুমতি দেয়নি। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে কর্মীদের আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করতে হয়েছে।’’

BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy