Advertisement
E-Paper

থানায় নালিশ ম্যানেজারের নামেও

ষাটপলশা দুর্নীতি-কাণ্ডে এ বার সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক ম্যানেজার এবং দুই সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৬ ০২:৩৫

ষাটপলশা দুর্নীতি-কাণ্ডে এ বার সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক ম্যানেজার এবং দুই সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হল।

শুক্রবার সকালে ময়ূরেশ্বর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন একশো দিনের কাজের প্রকল্পের দুই জবকার্ডধারী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনা হল, মাসখানেক ধরেই ১০০ দিন কাজের প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তেতে রয়েছে ওই পঞ্চায়েত এলাকা। অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ জটিল মণ্ডলের ডানহাত বলে পরিচিত তৃণমূল কর্মী সুরথ মণ্ডল ওরফে বাপ্পা বছরে পর বছর মজুরদের জবকার্ড এবং পাসবই আটকে রেখে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মজুরদের বঞ্চিত করে জটিলের ট্রাক্টর ও ড্রোজার দিয়ে কাজ করানোরও অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই টাকা ফেরতের দাবিতে ওই পঞ্চায়েতের প্রায় প্রতিটি গ্রাম তেতে ওঠে। বিক্ষোভ হয় সংশ্লিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শাখাতেও। বিডিও অফিসে এবং ব্যাঙ্কে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। দুর্নীতির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে আসতেই চাপের মুখে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গড়ে জেলা প্রশাসন।

Advertisement

কিন্তু, এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া দূ, ওই ঘটনায় প্রশাসন এফআইআর-ও করেনি বলে ক্ষোভ জবকার্ডধারীদের। তাই প্রশাসনের তদন্তে ভরসা হারিয়ে স্থানীয় গচেপাড়া গ্রামের সুকুর শেখ এবং জলিল শেখ এ দিন থানায় অভিযাগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, ‘‘সুপারভাইভার শেখ জাহান এবং জিয়ার শেখ জবকার্ড ও পাসবই আটকে রেখে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের সঙ্গে যোজসাজশ করে প্রায় ১৪ হাজার টাকা করে তুলে নিয়েছেন।’’ এ দিকে, বিজেপি-র ব্লক যুব মোর্চার সভাপতি বিশ্বজিৎ মণ্ডলের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগ জানানোর পর থেকে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য অভিযোগকারীদের বাড়িতে নানা রকম হুমকি দিচ্ছে। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি।

অন্য দিকে, সুপারভাইজেরা অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত কারণে বিজেপি তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করিয়েছে। আর্থিক প্রতারণায় অভিযুক্ত ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বাবলু দত্তর প্রতিক্রিয়া, ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলব না।’’

এর আগেও ৩০ জন জবকার্ডধারী ওই ম্যানেজারের বিরুদ্ধে বিডিও-র কাছে আর্থিক প্রতারণার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ময়ূরেশ্বর ২ বিডিও সৈয়দ মাসুদুর রহমানের বক্তব্য, ‘‘ওই জবকার্ডধারীদের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের কাছে প্রয়োজনীয় নথি-সহ জবাব চেয়ে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগপত্রটি থানাতেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযোগকারীরা পরে ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলছে। তাই এর বেশি কিছু বলা যাবে না।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy