সামনেই পার্বণ। বাঙালির নতুন বছর বলে কথা। নতুন জামাকাপড়ের সঙ্গে নতুন গয়না কেনারও চল রয়েছে বৈশাখের প্রথম দিনে কোথাও কোথাও। কিন্তু হাতের বালা বা আঙুলের আংটির ক্ষেত্রে পুরনো ভুল আর করবেন না। তাতে নতুন গয়না দ্রুত জেল্লা হারাবে। অনেক টাকা খরচ করে গয়না কিনছেন, অথচ তা ক্ষয়ে যাচ্ছে, এ কষ্ট তো মেনে নেওয়া যায় না! তাই আগে থেকেই ভুল নিয়ে সতর্ক হয়ে যাওয়া উচিত। যাতে, টাকাও বাঁচে, অলঙ্কারও রক্ষা পায়।
গয়না দ্রুত জেল্লা হারাচ্ছে কি? ছবি: সংগৃহীত
গয়না জেল্লা হারাচ্ছে কোন ভুলে?
কোভিডের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অভ্যাস এখনও বয়ে চলেছেন অনেকে। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য এখনও হাত পরিষ্কার রাখতে বার বার স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করেন কেউ কেউ। বাড়ির বাইরে থাকলে তো কারও কারও কাছে এটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই সহজ ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই নীরবে ক্ষতি করে দিতে পারে আপনার প্রিয় গয়নার।
কিন্তু হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ারের মধ্যে ৬০-৯৫ শতাংশ অ্যালকোহল ও রাসায়নিক পদার্থ (হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড এবং গ্লিসারিন) থাকে। সেগুলি গয়নার উপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে আংটি বা হাতে পরা গয়না সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ স্যানিটাইজ়ার মাখা হয় হাতেই। এই রাসায়নিকগুলি ধীরে ধীরে ধাতুর উপর ক্ষয় তৈরি করতে পারে। ফলে গয়নার রং ফিকে হয়ে যায়, ঔজ্জ্বল্য কমে যায়, এমনকি পাথর বসানো থাকলে সেটিও ঢিলে হয়ে যেতে পারে।
শুধু তা-ই নয়, নিয়মিত স্যানিটাইজ়ারের সংস্পর্শে আসার ফলে গয়নার উপর এক ধরনের স্তর জমে যায়, যা বাইরে থেকে তেমন বোঝা না গেলেও ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য নষ্ট করে দেয়। আপনি হাত পরিষ্কার করছেন ঠিকই, জীবাণু মারছেন ঠিকই, কিন্তু সেই সময়ে আপনার গয়নাও একই রাসায়নিকের সংস্পর্শে নষ্ট হচ্ছে।
যদি ধাতুর কথা বলা হয়, তা হলে সাদা সোনা এবং প্ল্যাটিনাম স্যানিটাইজ়ারের ছোঁয়ায় জেল্লা হারাতে শুরু করে। এমনকি রংও বদলে যেতে পারে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। রোডিয়াম ধাতু দিয়ে আংটির প্লেটিং করা হলে, স্যানিটাইজ়ারের কারণে ধাতুটি হলুদ ও তামাটে হয়ে যায়। সোনার খানিক বেশি সহনক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু কোনও বদল আসবে না, তা কিন্তু নয়। ঠিক সে ভাবেই পাথরের কথায় আসা যাক। হিরে এত পোক্ত, তা সত্ত্বেও ঘন ঘন অ্যালকোহলের সংস্পর্শে এলে ক্ষতি হতে পারে। খুব সূক্ষ্ম স্তর ফেলতে পারে তার উপর। কিন্তু আরও বেশি ক্ষতি হয় মুক্তো, প্রবাল, পান্না এবং ফিরোজার মতো পাথরগুলির।
স্যানিটাইজ়ারের হাত থেকে কী ভাবে গয়নাকে বাঁচাবেন? ছবি: সংগৃহীত
সে ক্ষেত্রে কী করা উচিত?
· সহজ উপায় হল, স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করার আগে গয়না খুলে রাখা। এতে সরাসরি রাসায়নিকের সংস্পর্শ এড়ানো যায়।
· একই ভাবে পারফিউম, লোশন বা অন্য প্রসাধনী ব্যবহার করার সময়েও গয়না না পরাই উচিত। কারণ, এই সব কিছুর মধ্যেও এমন উপাদান থাকে, যা গয়নার জেল্লা কমিয়ে দিতে পারে।
· সব রকমের স্যানিটাইজ়ার এক ভাবে তৈরি হয় না। যেগুলিতে অ্যালকোহলের পরিমাণ একটু কম এবং ময়েশ্চারাইজ়িং উপাদান বেশি, সেগুলি ব্যবহার করলে তা-ও ক্ষতি কম।
· যদি স্যানিটাইজ়ারের সংস্পর্শে চলে আসে গয়নাগুলি, তা হলে অল্প গরম জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নেবেন সঙ্গে সঙ্গে। তা হলে ধাতু ও পাথরে তা বেশি ক্ষণ বসতে পারবে না।
আরও পড়ুন:
পরিচ্ছন্ন থাকা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি নিজের ব্যবহার করা জিনিসগুলির যত্ন নেওয়াও। এই অভ্যাসই দীর্ঘ দিন ধরে আপনার প্রিয় গয়নাকে নতুনের মতো রাখতে সাহায্য করতে পারে।