নব নির্মিত সুসংহত শিশু বিকাশ কেন্দ্রের ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়া, কম গভীরতায় নলকূপ খননের ফলে জল না পাওয়া, বিধবা ভাতা ও বার্ধক্যভাতার বকেয়া টাকা না মেলা-সহ নানা অভাব অভিযোগ তুলে সরব হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাড়ুই থানা এলাকার ঘটনা। শনিবার দুপুরে কসবা বাগদিপাড়ার নব নির্মিত সুসংহত শিশু বিকাশ কেন্দ্রের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন তাঁরা। অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন বলে হুমকিও দিয়েছেন বাসিন্দারা।
কসবা পঞ্চায়েতের বাগদিপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নানাবিধ ভাতা বিষয়ক বকেয়া টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। বারে বারে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লক প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোনও সুরাহা হইনি। শুধু তাই নয়, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সুসংহত শিশু বিকাশ কেন্দ্রের নব নির্মিত ঘরের ছাদ থেকে জল চু’ইয়ে পড়ছে। নেই আলোর ব্যবস্থাও। তাঁদের আরও অভিযোগ, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, নিম্নমানের কাজ করায় নলকূপ থেকেও জল উঠছে না। যেটুকু জল মিলছে তাও পানীয় হিসেবে ব্যবহারের অযোগ্য। স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিধবাভাতা প্রাপক সীমা বাগদি, ঝোকন বাগদি, মিলন বাগদিরা বলেন, ‘‘মাসে ৬০০টাকা করে ভাতা পাওয়া যেত। কিন্তু গত বছর চৈত্র মাস থেকে কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ওই ভাতার টাকা বন্ধ হয়ে আছে। প্রায় বছর ঘুরতে চলল, এখনও পর্যন্ত ওই টাকা পাওয়া যাইনি।’’ বলাই বাগদি, মানেকা বাগদি, ইন্দ্রাবতি বাগদি, সন্ধ্যা বাগদিদের ক্ষোভ, ‘‘বার্ধক্য ভাতারও একই দশা। সেই কবে থেকে বন্ধ হয়ে আছে। পঞ্চায়েত বলছে, ব্লকে খোঁজ নাও। ব্লক বলছে ব্যাঙ্কে খোঁজ নাও। আর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানাছেন টাকা আসেনি। কী কারণে টাকা আসছে না কেউ জানাছেন না।’’
এলাকাটি সিপিএম অধ্যুষিত। ওই পাড়ার বাসিন্দা তথা সিপিএমের বোলপুর জোনাল কমিটির সদস্য সপ্তম বাগদির অভিযোগ, ‘‘নানা সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, পরিষেবা দিতে গড়িমসি-সহ একাধিক বিষয়ে এই পাড়া রাজনীতির শিকার। নোংরা রাজনীতির স্বার্থে উপভোক্তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে স্থানীয় ব্লক নেতৃত্ব ও প্রশাসন। শাসকদলের চোখ রাঙানি ও সন্ত্রাসের ভয়ে প্রতিবাদ করার ভাষাও হারিয়েছেন স্থানীয়রা। বোমা-বারুদ, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকা দখলের লড়াই করা-সহ গোটা এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শাসকদলের নেতাকর্মী এবং আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। শান্তিপ্রিয় গ্রামবাসীদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে শাস দল। অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা না নিলে, শীঘ্রই বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাব।’’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন ওই পাড়ার বাসিন্দা তথা ওই সুসংহত শিশু বিকাশ কেন্দ্রের সহায়িকা মঙ্গুলি বাগদি। তিনি বলেন, “ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে। যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছি। লাগোয়া নলকূপ থেকেও পানীয় জল মিলছে না। স্থায়ী কর্মী নেই। তবুও সাধ্যমতো পরিযেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’’ ওই কেন্দ্রের কর্মী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ। লাগোয়া কেশবপুর এলাকার কর্মী সোনালি দেবীকে সপ্তাহে তিন দিন দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দিন বহু যোগাযোগ করেও সোনালি দেবীকে পাওয়া যায়নি। সিপিএম নেতা তথা কৃষক সভার বোলপুর ব্লক কমিটি সম্পাদক সপ্তমবাবুর অভিযোগ, ‘‘৬ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকার কাজ। জনগণের টাকা শুধু অপচয় হচ্ছে। অত্যন্ত নিম্ন মানের কাজের জন্য ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে ভরা গ্রীষ্মেও। বৃষ্টিকালে কী হবে! শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ সংযোগের কথা থাকলেও আজও হয়নি।’’ একশো দিনের কাজের প্রকল্পে স্থানীয়দের পরিবর্তে বহিরাগতদের কাজে লাগানো, ভুয়ো মাস্টাররোল তৈরির অভিযোগ তুলেছেন ওই সিপিএম নেতা।
বোলপুরের বিডিও শমিক পাণিগ্রাহী বলেন, “সুসংহত শিশু বিকাশ কেন্দ্রে সাধারণত বিদ্যুতের সংযোগ থাকে না। কিন্তু কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমরা উদ্যোগী হয়ে একটা ‘মডেল’ হিসেবে সৌর আলোর ব্যাবস্থা করে থাকি। অদূর ভবিষ্যতে আমাদের ব্লকের প্রত্যেক পঞ্চায়েতে দু’টি কেন্দ্রে সৌর আলোর ব্যাবস্থা করার চিন্তা ভাবনা চলছে। বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা প্রাপকদের ক্ষেত্রে কিছু ব্যাঙ্কে সমস্যা থাকার কারণে উপভোক্তারা প্রাপ্য পাননি। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের লোকবলের অভাবে সমস্যা মেটানো সম্ভবপর নয় বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। আমরা বিকল্প ব্যাবস্থা হিসেবে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না চিন্তা-ভাবনা করছি। তবে কসবা বাগদিপাড়ার প্রাপকদের ক্ষেত্রে সঠিক কি সমস্যা হয়েছে, খতিয়ে দেখছি। সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অসুস্থ ৭। খাবারে বিষক্রিয়ার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়লেন একই পরিবারের সাত জন। পুরুলিয়ায় কাশীপুর ব্লকের আসনবনি গ্রামের ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই এলাকার কাহারাম মান্ডির পরিবারের সদস্যেরা সকলেই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। তাঁদের মাথা ঘুরতে থাকে, বেশির ভাগেরই বমি শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে হুড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁরা স্বাস্থ্যকর্মীদের জানান, অশ্বত্থ গাছের কচি পাতা সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। শনিবার ভাতের সঙ্গে সেই পাতা রান্না করে খেয়ে অসুস্থ হন।