কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকারকে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে দলের অন্দরে বিতর্কের মধ্যেই আবার বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল বাঁকুড়ায়। সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ্যে কখনও নাম করে, আবার কখনও নাম না করে একে অপরের সঙ্গে বাগ্যুদ্ধে জড়ালেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ও বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তথা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি সুজিত অগস্তি। একে অপরকে হুঁশিয়ারিও দিলেন তাঁরা। সমাজমাধ্যমে দু’জনের এই বাগ্যুদ্ধ শালীনতারও সীমা ছাড়াল মাঝেমধ্যে।
মঙ্গলবার বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে দলের কর্মীদের একাংশ চড়াও হয়ে তালাবন্ধ করে রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষকে। দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মণ্ডলকেও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনা নিয়ে দলের অন্দরে চাপানউতরের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার অস্বস্তি বাড়ালেন সৌমিত্র এবং সুজিত। দলীয় সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় জনৈক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, “এ বার বাঁকুড়া জেলার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে বিষ্ণুপুরে।” পোস্টটিতে ট্যাগ করা হয় সুজিতকে। অভিযোগ, এর পরেই ওই পোস্টের মন্তব্য বাক্সে সৌমিত্র লেখেন, “দম থাকলে করে দেখা সুজিত। একবার লড়ে নে। পলিটিকসে লাইফটা তোর কিছু রাখব না। ইটস মাই চ্যালেঞ্জ।” লেখার অযোগ্য ভাষায় পাল্টা মন্তব্য করেন সুজিতও।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে সৌমিত্রের দাবি, “আমার মুখের ছবিটা খারাপ করার উদ্দেশ্য নিয়ে একটি চক্র তৃণমূলের কাছে টাকা খেয়ে আমার বিরুদ্ধে এ সব করছে। আমি এ সব নিয়ে বেশি ভাবি না। মানুষ আমার সঙ্গে আছেন। আমি তিন লাখের বেশি ভোটে জিতব। আর সমাজমাধ্যমে করা আমার মন্তব্য নিয়ে আমি বলতে চাই। আমার ব্যাক্তিগত সহকারীর কাছে মোবাইল ছিল। তিনিই এই মন্তব্য করেছেন । তিনি এই মন্তব্য করে থাকলে বেশ করেছেন।”
পাল্টা সুজিতের দাবি, ‘‘সমাজমাধ্যমে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে কেউ এই পোস্ট করে আমাকে ট্যাগ করে থাকলে সেই পোস্টের দায় আমার নয়। আমি বাপের বেটা। দম আমার আছে। আমি পিছন থেকে ছুরি মারার লোক নই। সামনাসামনি লড়াই করতে পছন্দ করি। আমার লড়াই তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এবং তা আমি করে দেখাই।”
বিজেপির এই অন্তর্কলহকে নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তৃণমূল। দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দিব্যেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। বিজেপির এখন লোকজন কিছুই নেই। তাই মানসিক অবসাদে নিজেদের মধ্যে লড়াই করছে। লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, এই লড়াই ততই তীব্র হবে।”