রাজ্যে পালাবদলের পরে জেলা জুড়ে পঞ্চায়েত ও পুরসভায় তৃণমূলের সদস্য ও পদাধীকারীদের পদত্যাগ চলছে। পদত্যাগ না করলেও পুরসভা, জেলা পরিষদ থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতে— অনেক সদস্যই নিয়মিত আসছেন না। ব্যতিক্রম খয়রাশোলের পারশুণ্ডি গ্রাম পঞ্চায়েত। পালাবদলের পরেও মিলেজুলে পঞ্চায়েত চালাচ্ছেন বিজেপি ও তৃণমূলের সদস্যরা।
পারশুণ্ডি পঞ্চায়েতে ১২টি আসন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৬টি করে আসন পেয়েছিল তৃণমূল ও বিজেপি। টসে জিতে প্রধান হন তৃণমূলের নুরমিনা বিবি। উপপ্রধান হন বিজেপির মেঘনাদ বাউড়ি। পালাবদলের পরে পঞ্চায়েত আগের মতোই চলছে বলে দাবি করেছেন প্রধান ও উপ প্রধান দু’জনেই।
২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে খয়রাশোলের পারশুণ্ডি পাশাপাশি বিজেপি ও তৃণমূলের সমান আসন হয়েছিল ময়ূরেশ্বর ২ ব্লকের ময়ূরেশ্বর পঞ্চায়েতেও। ২০টি আসনের ওই পঞ্চায়েতে তৃণমূল ও বিজেপি ১০টি করে আসন পেয়েছিল। এখানেও তৃণমূলের প্রধান বিজেপির উপপ্রধান ছিলেন । কিন্তু রাজ্য পট পরিবর্তনের পরেই ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এখন বিজেপির দখলে চলে গিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ ছিল, তৃণমূল জোর করে ক্ষমতা দখল করেছিল।
ময়ূরেশ্বরের বিধায়ক ও রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল ওই পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুধকুমার। তাঁর পদত্যাগের পরে তৃণমূলের পক্ষে আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১০-৯। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতা আসার পরেই ২২ মে বিডিও-র কাছে প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেন মুর্শেদ শেখ। এর পরে ১৮ জুন ছিল প্রধান নির্বাচন। সেখানে প্রাক্তন প্রধান-সহ মোট দু’জন তৃণমূল সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। বিজেপির প্রধান হিসাবে তাপস নন্দীর নাম প্রস্তাব হয়েছিল। ১৭-০ ভোটে জিতে প্রধান হ তাপস।
এর মধ্যেই ব্যতিক্রম পারশুণ্ডি। উপ প্রধান মেঘনাদ বাউড়ি বলেন, ‘‘দল চাইলেই সমীকরণ বদলে যেতে পারে। কিন্তু তেমন কোনও নির্দেশ নেই। ফলে, পঞ্চায়েত যেমন চলছিল তেমনই চলছে। একটি দিকেই খেয়াল রাখছি পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো পক্ষপাতিত্ব না হয়।’’ দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ সাহাও বলেন, ‘‘জোর করে পঞ্চায়েত দখল করতে হবে এমন নির্দেশ তো নেই। পরিষেবায় খামতি যাতে না হয়, সেটা দেখা হবে।’’
পারশুণ্ডির তৃণমূলের প্রধান নুরমিনা বলেন, ‘‘আমি যেমন ভাবে পঞ্চায়েত চালাচ্ছিলাম তেমনই চলছে। বিজেপির সদস্যেরা আমাকে সহযোগিতা করছেন। কোনও সমস্যা নেই।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)