Advertisement
E-Paper

তৃণমূল নেত্রী কেন দলে, ক্ষোভ বিজেপি কর্মীদের

বিজেপি সূত্রে খবর, শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে দলবদল করেন তৃণমূলের ওন্দার নেত্রী তথা জেলা পরিষদ সদস্যা বাণী হাজরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ অগস্ট ২০২০ ০৪:০১
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা পরিষদের এক সদস্যা কলকাতায় বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে পদ্মফুলের পতাকা তুলে নিলেন। আর সেই খবর পেয়ে তাঁর এলাকারই বিজেপি কর্মীরা ফুঁসতে শুরু করেছেন। জেলা নেতৃত্ব সেই অসন্তোষের কথা রাজ্যকে জানাতে চলেছেন।

বিজেপি সূত্রে খবর, শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে দলবদল করেন তৃণমূলের ওন্দার নেত্রী তথা জেলা পরিষদ সদস্যা বাণী হাজরা। তিনি দাবি করেন, ‘‘পাঁচশো বছরের রামমন্দির বিতর্ক বিজেপির হাত ধরেই মিটেছে। ওই মন্দিরের ভিত পুজোর পরেই আস্থা মজবুত হয়েছে। তৃণমূলে দিদির ভাইদের কাণ্ড কারখানায় আমি ক্ষুব্ধ। তাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছি।”

তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরার পাল্টা দাবি, “বাণীর মত কয়েক জন নেতা-নেত্রীর চরিত্রের জন্যই জেলায় মানুষের আস্থা হারিয়েছিলাম। তাই লোকসভা ভোটের পরে তাঁকে পিছনের সারিতে ঠেলে দেওয়া হয়। এখন তিনি নিজেই বিজেপিকে বেছে নেওয়ায় স্বস্তি পেয়েছি।”

বাণীদেবীকে নিয়ে অবশ্য জেলা বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ আপাতত স্বস্তি পাচ্ছেন না। শুক্রবারই বাণীদেবীর নিজের এলাকা ওন্দার চন্দ্রকোনা বুথে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। ওই বুথের বিজেপি সভাপতি তথা ওন্দা মণ্ডল কমিটির সদস্য মঙ্গল বটব্যাল দাবি করেন, ‘‘এলাকায় কাটমানি তোলায় ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। তাঁর বাধাতেই ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে আমরা এলাকা ছাড়া হই। তৃণমূলের এই ধরনের নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধেই আমরা জনমত সংগঠিত করছি। এখন তাঁরাই যদি দলে চলে আসেন, তাহলে আমরা কার বিরুদ্ধে লড়ব? লোকের কাছে কী জবাব দেব?’’ বিজেপির ওন্দা মণ্ডল সভাপতি কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাণী হাজরাকে দলে নেওয়া নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের কথা রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব।”

অস্বস্তি চেপে রাখতে পারেননি বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি হরকালী প্রতিহার। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত ভাবে ওই নেত্রীকে চিনি না। তিনি কী ভাবে দলে এলেন জানি না। কর্মীদের ক্ষোভের কথা রাজ্যকে জানাব।”

তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাণীদেবী বলেন, “ভিত্তিহীন অভিযোগ। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার বাড়িতে বার বার এসেছেন। আমাকে দলে যোগ দেওয়ার জন্য বলেছেন। তাই এগিয়েছি।”

বিজেপির রাজ্য নেতা তথা বাঁকুড়ার সাংসদ সুভাষ সরকার বলেন, “আমাদের দলে কেউ এলে তাঁকে দলের নীতি আদর্শের ছাঁচে ফেলে গড়ে নেওয়া হয়।”

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের ৪৬টি আসনই তৃণমূল দখল করে। বাণীদেবী বিজেপিতে যাওয়া তাঁর আসনে নতুন করে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা দানা বেঁধেছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। শ্যামলবাবু বলেন, “এ সব নিয়ে আমরা পরে চিন্তাভাবনা করব।”

BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy