রাখি বন্ধন উৎসব ঘিরেও জনসংযোগে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি। আজ, রবিবার বীরভূম জেলার প্রতি মণ্ডলে রাখি উৎসব পালন করবে বিজেপি। একই ভাবে উৎসব পালনের ক্ষেত্রে জেলার সব ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে বিধায়ককে বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছেন জেলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এর আগে বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী, নেতাজি জন্মজয়ন্তী পালন ঘিরেও দুই দল টক্করে নেমেছিল। রাখি বন্ধন উৎসবেও সেই টক্কর অব্যাহত। করোনা বিধিনিষেধ মেনেই উৎসবে কোনও রকম খামতি রাখতে চাইছে না যুযুধান দুই শিবির। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনে পর্যুদস্ত হওয়ার পরে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়াতেই রাখি বন্ধন উৎসবকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। এই উৎসব পালনের মাধ্যমে মণ্ডলে মণ্ডলে তারা সংগঠনকে মজবুত করতে চাইছে। কোথাও কোথাও ছোট আকারে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, আবার কোথাও মানুষের সঙ্গে জনসংযোগের মধ্যে দিয়ে দিনটিকে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজেপির সমস্ত স্তরের কার্যকর্তাদের। দলের জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, “রাখি বন্ধন হল মেলবন্ধনের উৎসব। আর সেই উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা পশ্চিমবঙ্গে শান্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। সেই মতো সমস্ত কার্যকর্তাকে নিজ নিজ এলাকায় রাখি বন্ধন উৎসব পালন করতে বলা হয়েছে।”
অন্য দিকে তৃণমূল সূত্রের খবর, যুব কল্যাণ দফতরের উদ্যোগে সরকারি ভাবে রাখি বন্ধন উৎসব জেলার প্রায় সব জায়গায় পালন করা হলেও দলীয় স্তরে প্রতি ব্লকে উৎসব পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্লক সভাপতিদের। কোথাও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, কোথাও জাঁকজমকভাবে দিনটিকে পালন করা হবে। দলের বিধায়কদেরও রাখি বন্ধনের মাধ্যমে ধর্মীয় মেরুকরণের বিরুদ্ধে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। বোলপুর, সিউড়ি পুরসভার পক্ষ থেকেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করা হবে। দলীয় অনুষ্ঠান গুলিতে তৃণমূলের প্রতীক আঁকা রাখির ব্যবহার করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। গত বছর রাখির বাজারে মোদী ও মমতা রাখির ভালই টক্কর দেখা গিয়েছিল। কিন্তু, এ বার বিধানসভা ভোটে তৃণমূল তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফেরায় রাখির বাজারে দাপট বেশি ঘাসফুলেরই। তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি তথা লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ বলেন, “প্রতি বছর রাখি বন্ধন উৎসব যে ভাবে উদ্যাপন করা হয়ে থাকে, এ বারও সে ভাবে করা হবে। তবে যারা ইদানীং কালে এই ধরনের উৎসব করছেন, তা লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়।” সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য গৌতম ঘোষ বলেন, “রাখি বন্ধন উৎসবের নাম করে যে ভাবে তৃণমূল ও বিজেপি মাঠে নেমে পড়েছে, তা দুর্ভাগ্যজনক। এ হল মেলবন্ধনের উৎসব। তাই উৎসব নিয়ে রাজনীতি না করা উচিত নয়।’’