Advertisement
E-Paper

দলবদলুদের জন্য ‘ছাঁকনি’

এই মুহূর্তে দলবদলু কিংবা অন্য দল থেকে আসা কোনও কর্মীকে সরাসরি দলে নেওয়া যাবে না বলে দলের সর্বস্তরে নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

বাসুদেব ঘোষ 

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২১ ০৬:০৯

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরে তৃণমূলের জেলা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল দল বদলানো কর্মীদের ফের ঘরে ফেরানো যেতে পারে। কিন্তু তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া কোনও নেতাকে এই মুহূর্তে দলে ফেরানো যাবে না বলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা তৃণমূল।

এই মুহূর্তে দলবদলু কিংবা অন্য দল থেকে আসা কোনও কর্মীকে সরাসরি দলে নেওয়া যাবে না বলে দলের সর্বস্তরে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। দলে আসতে চাওয়া যে কারও জন্য দলের এই শক্ত এবং ‘ছাঁকনি’ রাখার মনোভাবে যে আখেরে লাভই হবে বলে মনে করছেন অনেক পুরনো নেতা-কর্মীই।

বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের পাশাপাশি জেলাতে বিজেপির ভরাডুবির পর কখনও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে তৃণমূলে ফিরতে দেখা গিয়েছে, কখনও তৃণমূলে ফেরার জন্য তাঁদের মুচলেকা দিতে হয়েছে, আবার কখনও তাঁদের গায়ে স্যানিটাইজার ছিটিয়ে তৃণমূলে যোগদান করাতেও দেখা গিয়েছে। এমনকি বহু জায়গায় বিজেপি কর্মীদের জরিমানা দিয়েও তৃণমূলে যোগ দিতে হয়েছে।

জেলার তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, এই জিনিস চলতে থাকলে দলের যে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে তা নষ্ট হতে পারে, দল সম্পর্কে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে বলেই তড়িঘড়ি
জেলা কমিটি থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দলবদলু কিংবা অন্য দল থেকে আসা আর কোনও কর্মীকে এই মুহূর্তে আর দলে যোগদান করানো যাবে না। কর্মীদের যোগদান করাতে গেলে দলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে, তাঁরা যদি অনুমতি দেন তবেই সেই সমস্ত কর্মীদের যোগদান করানো যাবে। যদি কেউ এই নির্দেশ না মানেন তাহলে দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।

এই মর্মে জেলার সমস্ত ব্লক সভাপতি, অঞ্চল সভাপতি ও শহর সভাপতিদের শুক্রবার একটি মেসেজের মাধ্যমে বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ইলামবাজার, জনুবাজার, সাহাপুর, বাতিকার, বদিপুর, বিলাতি, মঙ্গলডিহি, জয়দেব সহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে যে সমস্ত যোগদান কর্মসূচি রাখা হয়েছিল এই সিদ্ধান্তের পর তা বাতিল করা হয়েছে।

এই বিষয়ে জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তা-ভাবনা করছিলাম এটাকে কী ভাবে আটকানো যায়। এর পরেই জেলা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। জেলা কমিটির এই সিদ্ধান্ত যথপোযুক্ত এবং এতে দলের আখেরে ভালই হবে।”

যদিও এই বিষয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, “তৃণমূল এখন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে, যারা তৃণমূলে যাচ্ছে তাদেরকে নিয়ে দলের মধ্যে অশান্তি তৈরি হয়েছে সেই কারণেই ওদের নেতারা এখন বাধ্য হয়ে বলছে আর কোনও কর্মীকে দলে নেওয়া যাবে না। মানুষ এত বোকা নয়, সবাই সবই বোঝে। তাই আগামীদিনে মানুষই এদের যোগ্য জবাব দেবে।”

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy