বড় কোনও চমক ছাড়াই সোমবার জেলা পরিষদের ন’টি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হলেও মনোনয়ন ঘিরে প্রশ্ন উঠল তৃণমূলের অন্দরে।
জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষ কাকে করা হয় তা নিয়ে কৌতূহল ছিল তৃণমূলের অন্দরে। ২০১৩ এবং ২০১৮-এ জেলা পরিষদের নির্বাচিত দলনেতাকে ওই স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ করা হয়েছিল। অনেকেই নিশ্চিত ছিলেন, সেই রীতি অনুযায়ী এ বার ওই স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ করা হবে এ বার জেলা পরিষদের দলনেতা পরে নির্বাচিত স্বপন বেলথরিয়াকে। কিন্তু তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ মোতাবেক ওই পদে বসানো হয়েছে দলের জেলা কমিটির চেয়ারম্যান ও কুড়মি সম্প্রদায়ের নেতা হংসেশ্বর মাহাতোকে। রাজ্য নেতৃত্বের পাঠানো তালিকায় হংসেশ্বরের পরে ছিল স্বপনের নাম। এর পরেই জল্পনা শুরু হয় দলের অন্দরে।
দলীয় সূত্রে খবর, স্বপনকে পূর্ত ও পরিবহণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ না করায় হতাশ স্বপনের অনুগামীরা। ঘনিষ্ঠ মহলে বিষয়টি নিয়ে স্বপনও ‘ক্ষোভপ্রকাশ’ করেছেন বলে খবর। ক্ষোভের আঁচ রাজ্য স্তরেও পৌঁছেছে। যদিও তা মানতে নারাজ স্বপন। তিনি বলেন, ‘‘আমি দলনেতা। দল আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা দলের একনিষ্ঠ সৈনিক। দলের নির্দেশ মেনে কাজ করব।’’
এ দিন কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনের সময়ে একপ্রস্থ ‘নাটক’ হয়। তৃণমূল সূত্রে খবর, জেলা পরিষদের ক্ষুদ্রশিল্প, বিদ্যুৎ ও অচিরাচরিত শক্তি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে দল যাঁকে মনোনীত করেছিলেন, সেই নীলাঞ্জনা পট্টনায়ক বৈঠক শুরুর সময়ে ছিলেন না। তখন স্থায়ী সমিতির অন্য এক সদস্য অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়কে কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। বৈঠক শুরুর প্রায় আধঘণ্টা পরে নীলাঞ্জনা বৈঠকে যোগ দেন। তখন অভিজিতের পরিবর্তে তাঁর নাম লেখা হয়। এ নিয়ে স্বপন বলেন, ‘‘একটি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ পদে যাঁর নাম ছিল, তিনি একটু দেরিতে বৈঠকে এসেছিলেন।’’
জেলা পরিষদ প্রেক্ষাগৃহে অতিরিক্ত জেলাশাসকের (জেলা পরিষদ) উপস্থিতিতে কর্মাধ্যক্ষদের নির্বাচিত করা হয় এ দিন। বৈঠকে ন’টি স্থায়ী সমিতির সদস্যেরা হাজির ছিলেন। কোন স্থায়ী সমিতিতে কর্মাধ্যক্ষ পদে কাকে বাছা হয়েছে, সে নামগুলি প্রস্তাব করেন স্বপন। স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষদের স্বপন জানিয়ে দেন, তাঁরা একক ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি স্থায়ী সমিতিতে পাঁচ জন সদস্য রয়েছেন। এক জন কর্মাধ্যক্ষের চেয়ারে বসবেন ঠিকই, তবে বাকি চার জনকে বৈঠকে ডাকতে হবে।’’
তৃণমূল সূত্রে খবর, কর্মাধ্যক্ষদের নামের তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কেউ কেউ ‘অসন্তুষ্ট’। বান্দোয়ান বিধানসভা এলাকা থেকে চার জনকে (প্রতিমা সরেন, হংসেশ্বর মাহাতো, শিবানী মাহাতো ও সুমিতা সিংমল্ল) কর্মাধ্যক্ষ করায় ‘ক্ষুব্ধ’ অনেকে। আগে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছিল, জেলার ন’টি বিধানসভা এলাকা থেকে ন’জনকে কর্মাধ্যক্ষ পদে বেছে নেওয়া হবে। তাতে কারও কিছু বলার থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে তা না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, কী ভাবে তৈরি হল এই তালিকা। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়ার বক্তব্য, ‘‘দল যাঁদের নাম পাঠিযেছে তাঁরাই কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দলের নির্দেশ সকলের কাছেই শিরোধার্য।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)