সংখ্যাটা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বাঁকুড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতরের উদ্বেগও। শুক্রবার জেলা স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গত দু’দিনে জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে ছ’জন নতুন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এঁরা প্রত্যেকেই জ্বর নিয়ে বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি হন। হাসপাতালের ম্যাক অ্যালাইজা মেশিনে তাঁদের রক্ত পরীক্ষা করার পরেই ডেঙ্গির জীবাণু ধরা পড়ে।
জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ নীলয় চক্রবর্তী জানান, যে-সব ব্লকে ডেঙ্গি ধরা পড়েছে, সেই ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (বিএমওএইচ) জেলা থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। আশা কর্মীরা যাতে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করেন, সে বিষয়েও নজর দিতে বলা হয়েছে। জ্বর হলেই আশা কর্মীরা প্রথমে ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করছেন। সেই সঙ্গে আক্রান্তদের রক্ত সংগ্রহ করে বাঁকুড়া মেডিক্যালে পাঠানো হচ্ছে ডেঙ্গি পরীক্ষার জন্যও। বাঁকুড়া পুরসভায় দু’টি ফগিং মেশিন দিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশা নিধন অভিযানও চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, গত বছর এই জেলায় ৫৮ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছরে এখনই সংখ্যাটা ২২। স্বস্তি একটাই, এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বছর এবং এ বছর জেলায় এখনও অবধি কারও মৃত্যু হয়নি। এই রেকর্ড ধরে রাখাটাই এখন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রকৃতির উপরেও অনেকটাই নির্ভর করছে স্বাস্থ্য দফতর। বাঁকুড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রসূনকুমার দাসের কথায়, “আমরা তাকিয়ে রয়েছি ভারী বৃষ্টির দিকে। মুষলধারে বৃষ্টি হলে অনেকটাই সমস্যা মিটবে। যে-সব জায়গায় জল জমে ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার বাহক মশার লার্ভা রয়েছে, সেগুলি বৃষ্টির জলে ভেসে নষ্ট হবে।’’
চলতি বর্ষায় জেলায় এখনও তেমন ভারী বৃষ্টি হয়নি। বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু কিছু এলাকায় হয়েছে। কিন্তু, তা যথেষ্ট নয়। বরং এই বৃষ্টিতে জল আরও জমে থাকার আশঙ্কা বাড়ে। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার পঞ্চানন কুণ্ডু জানাচ্ছেন, জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে হাসপাতালে। ভিন্ জেলার রোগীরাও এই হাসপাতালে ছুটে আসছেন। বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার বেরুগ্রামের বাসিন্দা কলুজা বাগদি ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে এখানে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে ডেঙ্গি পরীক্ষার কিটের অবশ্য খামতি নেই বলেই জানিয়েছেন সুপার। এ দিকে মঙ্গলবার থেকে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া দু’টি ফগিং মেশিন নিয়ে বাঁকুড়া পুরসভায় মশা নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। শহরের ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত চারটি ওয়ার্ডের গোটা এলাকা এবং দু’টি ওয়ার্ডের অর্ধেক এলাকায় ধোঁয়া দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, চলতি বছর বাঁকুড়া পুর-এলাকায় এখনও অবধি চার জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। শহরে জ্বরের প্রকোপও বেড়েছে। এই ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যেও আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। এই অবস্থায় জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কাছে আরও কয়েকটি ফগিং মেশিন চেয়ে আবেদন করেছেন পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত। এ দিন তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য দফতর আমাদের আরও চারটি মেশিন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। শীঘ্রই সেই মেশিনগুলি হাতে পাব আমরা। তার পর দ্রুত শহরের সব ক’টি ওয়ার্ডে মশা নিধন অভিযান শেষ করব।’’