Advertisement
E-Paper

করোনা জেনে নানা নিষেধ

করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ আসায় কলকাতার কেষ্টপুরে ফ্ল্যাটের বাইরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পড়শিদের বিরুদ্ধে। আর ইলামবাজারের ধরমপুর পঞ্চায়েতের শুনমনি গ্রামে গোটা পরিবারকেই কার্যত ‘একঘরে’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

বাসুদেব ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৩:০৭
বাড়ির বেড়া। নিজস্ব চিত্র

বাড়ির বেড়া। নিজস্ব চিত্র

করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সতর্কতা জরুরি। তাই বলে অকারণে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই— এই সতর্কবাণী পুলিশ, প্রশাসনের তরফে প্রচারে বারেবারেই বলা হচ্ছে। তার পরেও কার্যক্ষেত্রে তেমনটা যে হচ্ছে না এমন অভিযোগ সামনে আসছেই। করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ আসায় কলকাতার কেষ্টপুরে ফ্ল্যাটের বাইরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পড়শিদের বিরুদ্ধে। আর ইলামবাজারের ধরমপুর পঞ্চায়েতের শুনমনি গ্রামে গোটা পরিবারকেই কার্যত ‘একঘরে’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন ধরে হাল্কা জ্বর ও গলা ব্যথা ছিল শুনমনির বছর চল্লিশের এক সরকারি ডিগ্রি না থাকা চিকিৎসকের। ৩০ তারিখ তিনি ইলামবাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে র‌্যাপিড টেস্টের মাধ্যমে করোনা পরীক্ষা করান। ওই দিনই করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ১৪ দিন হোম কোয়রান্টিনে থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে গোটা পরিবারকে গ্রামের পুকুরে কাপড় কাচতে বা বাসন মাজতে কিংবা গ্রামের মুদিখানা দোকান থেকে জিনিস নিয়ে আসার ক্ষেত্রে নিষেধ করা হয় বলে অভিযোগ।
শুক্রবার গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, ওই পরিবারের সঙ্গে যাতে কেউ মেলামেশা করতে না পারেন, তার জন্য স্থানীয় ধরমপুর পঞ্চায়েতের তরফে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির সামনে বাঁশ বেঁধে আড়াল দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতে বিপাকে পরিবার। এখন গ্রামের মুদিখানার দোকান থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ফোনে অর্ডার দিতে আনাতে হচ্ছে তাঁদের। দোকান থেকে জিনিস কয়েক গজ দূরে রেখে দেওয়া হচ্ছে। করোনা আক্রান্তের কাকা বলেন, ‘‘আমরাও জানি রোগটা ছোঁয়াচে। তাই বলে এ ভাবে একঘরে করে দেওয়া ঠিক নয়। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত।’’
পঞ্চায়েতের প্রধান শাবানা বেগম বলেন, ‘‘সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে বিডিও অফিস থেকে ওই আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির চারপাশ বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলার কথা জানানো হয়েছিল। পঞ্চায়েতের তরফে বৃহস্পতিবার বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়।’’ বিডিও (ইলামবাজার) মহম্মদ জসিমউদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘‘ব্যারিকেড খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যদি কেউ দুর্ব্যবহার করে থাকেন, তা হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’’ ওই পরিবারের খাওয়া-দাওয়ার যাতে কোনও
অসুবিধা না হয়, সেই দিকটিও প্রশাসন দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

Coronavirus covid 19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy