Advertisement
E-Paper

খালি শিবির দেখে ধান কিনতে গ্রামে

শনিবার ধান নিয়ে ঝালদা ১ ব্লকের মাঠারি-খামার পঞ্চায়েতে এসেছিলেন বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা। বিক্রি না করতে পেরে ফিরে গিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০১৯ ০৪:১১
হাজির: গ্রামের একটি বাড়ির বাইরে চলছে ধান কেনা। নিজস্ব চিত্র

হাজির: গ্রামের একটি বাড়ির বাইরে চলছে ধান কেনা। নিজস্ব চিত্র

ধড়ফড় করে শিবির খুলে বসে দিনভর কার্যত মাছি তাড়াতে হল।

শনিবার ধান নিয়ে ঝালদা ১ ব্লকের মাঠারি-খামার পঞ্চায়েতে এসেছিলেন বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা। বিক্রি না করতে পেরে ফিরে গিয়েছেন। সোমবার সেখানে সমবায়ের লোকজন গিয়েছিল ধান কিনতে। চাষিরাই আসেননি। কেন? সাত তাড়াতাড়ি জট খুলে যে ধান কেনা শুরু হয়েছে, সেই খবরটাই এ বারে পৌঁছয়নি অনেকের কাছে। ঘটনায় ধান কেনার ব্যাপারে বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে এলাকায় প্রচার করা হয়েছিল—শনিবার থেকে তিন দিন পঞ্চায়েত অফিসে শিবির করে ধান কেনা হবে। চাষিরা কেউ ট্রাক্টরে, কেউ গরুর গাড়িতে, কেউ ভ্যানে, কেউ সাইকেলে ধান নিয়ে এসেছিলেন দূরের গ্রাম থেকে। দেখেন, ধান যাদের কেনার কথা, তাঁদের কেউ নেই। প্রায় বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করে ফিরে যান তাঁরা। ওই ব্লকের কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর সুপ্রিয় পাখিরা জানান, যে সমবায়ের ধান কেনার কথা ছিল, তাঁদের সঙ্গে চাল কলের চুক্তি হয়নি। তাই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিডিও নির্মিতা সাহা জানিয়েছিলেন, যাতে দ্রুত চুক্তি হয় সেটা দেখা হচ্ছে।

চাল কলের হয়ে ঝালদা লার্জ সাইজ মার্কেটিং কো-অপারেটিভের চাষিদের থেকে ধান কেনার কথা। সুপ্রিয়বাবু জানিয়েছিলেন, চাষিদের যাতে ধান নিয়ে এসে আবার ফিরতে না হয়, সে জন্য সোম ও মঙ্গলবারের শিবির স্থগিত করা হচ্ছে। মাঠারি-খামার পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান হেমন্তকুমার মাহাতো জানান, শিবির স্থগিত রাখা হচ্ছে—এই মর্মে প্রশাসনের নির্দেশিকা চলে এসেছিল। তাঁরা চাষিদের খবরটা দিয়ে দিয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, কবে শিবির হবে সে কথা আবার জানানো হবে।

কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর সুপ্রিয়বাবু জানাচ্ছেন, রবিবারই চুক্তি হয়ে গিয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ধান কেনা। জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে সমবায়ের লোকজন গাড়ি নিয়ে পঞ্চায়েতে পৌঁছন। পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে ব্যানার টাঙিয়ে জানানো হয়, ধান কেনা হচ্ছে। কিন্তু কোনও চাষি শিবিরমুখো হননি। শেষে, দুপুর গড়িয়ে গেলে সমবায়ের লোকজন পঞ্চায়েত অফিস থেকে ব্যানার খুলে নিয়ে হাজির হন গ্রামে। চাষির বাড়িতে গিয়ে ধান কেনা শুরু হয়। বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কুইন্টাল ধান উঠেছে বলে খবর। জানানো হয়েছে, শিবির চলবে আজ, মঙ্গলবার পর্যন্ত।

কেন হল এমনটা? ঝালদা লার্জ সাইজ মার্কেটিং কো-অপারেটিভের ম্যানেজার অনিল কুইরি বলেন, ‘‘এ দিন ধান কেনা হবে না বলে চাষিরা জানতেন। তাই হয়তো কেউ আসেননি। তবে খবর সবার কাছেই পৌঁছে গিয়েছে। কাল অনেকে শিবিরে আসবেন বলে আশা করছি।’’ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান হেমন্তবাবু জানাচ্ছেন, ধান কেনা বন্ধ রাখার যে নির্দেশিকা ছিল, সেটি এ দিন সকালেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। জারি হয়েছে নতুন নির্দেশিকা। কিন্তু গ্রামে গ্রামে চাষিদের কাছে সেই খবর পৌঁছে দেওয়ার মতো সময় তখন ছিল না।

শনিবার ধান বিক্রি করতে গিয়ে ফিরেছিলেন এদেলডি গ্রামের গোলক সিং মুড়া, উহাতু গ্রামের ভগীরথ মাহাতোরা। তাঁদের বক্তব্য, আগে জানতে পারলে এ দিনই ধান নিয়ে যেতেন। অর্দনা গ্রামের ধনীরাম মাহাতোর প্রশ্ন, ‘‘শিবিরের তো আর মাত্র একটা দিন পড়ে। এর মধ্যে ধান আনতে না পারলে কী হবে?’’ উজ্জ্বল চট্টরাজ বলেন, ‘‘বিভ্রান্তির জেরে আরও একটা দিন খরচ হয়ে গেল।’’

তবে অনিলবাবু বলেছেন, ‘‘আমরা চাষিদের থেকে আবার ধান কিনব।’’ কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর সুপ্রিয়বাবুর আশ্বাস, ‘‘পরে ওই পঞ্চায়েতে আরও শিবির হবে।’’

Rice Trading Camp Farmers
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy