Advertisement
২১ জুন ২০২৪

বাবাকে খুঁজে পেল ছেলে, সৌজন্যে ‘হ্যাম রেডিও’

সাত দিনেরও বেশি চিকিৎসাধীন ছিলেন রামপুরহাট জেলা হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিভাগে। জানা যাচ্ছিল না তাঁর ঠিকানা।

পাশে: বাবার মাথার কাছে ছেলে। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম

পাশে: বাবার মাথার কাছে ছেলে। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম

নিজস্ব সংবাদদাতা
রামপুরহাট শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০০:২৭
Share: Save:

সাত দিনেরও বেশি চিকিৎসাধীন ছিলেন রামপুরহাট জেলা হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিভাগে। জানা যাচ্ছিল না তাঁর ঠিকানা। শেষে কলকাতার ‘হ্যাম রেডিও’ সংস্থার তৎপরতায় সোমবার তাঁর পরিচয় জানতে পারেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দমদমের নাগেরবাজারের অমরপল্লির বাসিন্দা সেই দীপককুমার সিংহ অবশেষে বাড়ি ফিরলেন। শুক্রবার সকালে কলকাতা থেকে তাঁর ছেলে জয়ন্ত সিংহ ও পড়শি রবীন্দ্রনাথ দেবনাথ দীপকবাবুকে অ্যাম্বুল্যান্সে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

এ দিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, ছেলে জয়ন্ত বাবার মাথার কাছে বসে হাসপাতাল থেকে দেওয়া দুধ-বিস্কুট দীপকবাবুকে খাওয়াচ্ছেন। অসুস্থ প্রৌঢ়ের চোখে তখন আনন্দাশ্রু। জয়ন্ত বললেন, ‘‘একটা ভুল বোঝাবুঝি থেকে বাবা ও মা বাড়ি ছেড়েছিলেন। আজ বাবাকে ফিরে পেয়ে আমি খুশি। আমার মাকে এখনও খুঁজে পাওযা যায়নি। আমার আশা, এক দিন মাকেও ফিরে পাব।’’ ‘হ্যাম রেডিও’ সংস্থার কর্ণধার অম্বরীশ নাগ বিশ্বাসের জানান, তাঁদের কাছে কোনও সূত্রই ছিল না। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অনেক চেষ্টার পরে তাঁরা দীপকবাবুর সন্ধান পান। টিমের সদস্য শ্যামল রায় দীপকবাবুর ছেলেকে খুঁজে বার করেন। অম্বরীশবাবুর কথায়, ‘‘উনি ছেলের কাছে সুস্থ আর আনন্দে থাকুন, এটুকুই চাই।’’

রামপুরহাট হাসপাতাল সুপার শর্মিলা মৌলিক বলেন, ‘‘আমরা চাইছিলাম দীপকবাবুর বাড়ির কেউ তাঁকে নিয়ে যাক। তা হলে ভাল চিকিৎসাও হবে। ছেলে এ দিন তাঁকে নিয়ে গেল, আমাদের খুব ভাল লাগছে।’’ বাবাকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তুলবেন বলে দাবি করেছেন জয়ন্তও। অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে রওনা দেওয়ার আগে দীপকবাবু হাসপাতালের আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনাদের জন্যই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

অন্য বিষয়গুলি:

Ham Radio Connection Hospital
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE