Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

স্কুলে নিয়ে গেল কন্যাশ্রী দিদিরা

দিদিরা, মানে বিউটি-দীপশিখা-রাধা-আরতি, সবাই কন্যাশ্রী। ঝালদা গার্লস হাইস্কুলে পড়ে। সেখানে রয়েছে তাদের ক্লাব— ‘উড়ান’।

প্রশান্ত পাল
পুরুলিয়া ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২৩:৩৮
Save
Something isn't right! Please refresh.
ঝালদা হাইস্কুলে ভর্তি হচ্ছে ডাক্তারেন। নিজস্ব চিত্র

ঝালদা হাইস্কুলে ভর্তি হচ্ছে ডাক্তারেন। নিজস্ব চিত্র

Popup Close

আপনজন বলতে শুধু দিদিমা আর মাসি। দু’জনেই পরিচারিকার কাজ করেন। সাত সকালে বেরোতে হয়। ছেলেটার আবার স্কুলের পাট নেই। দুপুর কেটে যেত ছন্নছাড়া। এক দিন অসুখ হল তার। সারে আর না। এমন সময়ে হঠাৎ হাজির দিদিরা! আর তার পরেই ঝালদার দশ বছরের ডাক্তারেন মাছুয়ার সত্যি জীবনটা হয়ে গেল গল্পের মতো। ডাক্তারবদ্যি দেখিয়ে, সেরে উঠে, চুল আঁচড়ে এখন রোজ স্কুলে যায় সে।

দিদিরা, মানে বিউটি-দীপশিখা-রাধা-আরতি, সবাই কন্যাশ্রী। ঝালদা গার্লস হাইস্কুলে পড়ে। সেখানে রয়েছে তাদের ক্লাব— ‘উড়ান’। ইউনিসেফের পক্ষে ক্লাবটির দায়িত্বে থাকা মুকেশ দাস বলেন, ‘‘কয়েক বছর আগেও টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে উড়ানের মেয়েরা একটা ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছিল। ওরা সবাই পাশ করে চলে গিয়েছে। এ বার এরা এল। এখন স্বপ্ন দেখি, এই সমস্ত মেয়েরাই বড় হয়ে চারপাশটা সুন্দর করে তুলবে।’’

ব্যাপারখানা কী?

Advertisement

সরমা-রিয়া-সুরভি-অঞ্জলিরা জানাচ্ছে, কথাচ্ছলেই একদিন ছেলেটির কথা জানতে পারে তারা। বাড়িতে গিয়ে দেখে, হাত-পা ফুলে গিয়েছে। ডাক্তারেনের মাসি মেণকা মাছুয়ার বলেন, ‘‘ছেলেটা দিন দিন ঝিম মেরে যাচ্ছিল।’’ ডাক্তার দেখানোর বন্দোবস্ত হয়। জানা যায়, তার মূত্রজনিত সংক্রমণ হয়েছে। ওষুধ কিনতে টাকা চাই। শুরু হয় বন্ধুদের থেকে চাঁদা তোলা। ‘উড়ান’-পাশে এসে দাঁড়ায় ঝালদা হিন্দি হাইস্কুলের ছাত্রীদের ক্লাব ‘হসলা’। হাজার ছয়েক টাকা জোগাড় হয়ে যায়। পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে শিশুসাথী ক্লিনিকেও চিকিৎসা করানো হয় ডাক্তারেনের।

সুস্থ হয়ে ওঠার পরে জানা যায়, চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিল ছেলেটি। ঝালদা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বপন গুলিমাজি বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগে ঝালদা গার্লসের মেয়েরা এসেছিল। ওদের কাণ্ডকারখানা শুনে আমরা তো অবাক।’’ সোমবার স্কুলে ভর্তি হয়েছে ডাক্তারেন। সেখান থেকেই বই পাবে সে। দিদিরা দিয়েছে, খাতা, পেন, ব্যাগ। জিজ্ঞেস করেছে, ‘‘স্কুল কামাই করবি না তো?’’

ডাক্তারে বলেছে, ‘‘না। কিন্তু শরীর খারাপ হলে?’’



Something isn't right! Please refresh.

Advertisement