স্বনির্ভর দলের দলনেত্রীর বিরুদ্ধেই টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠল। বান্দোয়ানের কালিন্দী পাড়ার ঘটনা। দলের বাকি সদস্যরা ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে বিডিও (বান্দোয়ান) এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। যদিও বান্দোয়ানের কালিন্দী পাড়ার ‘জয় মা মনসা মহিলা সমিতি’-র সভানেত্রী পার্বতী দাস তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্বনির্ভর দলের মহিলারা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে ছোটখাট ব্যবসা করেন। ব্যবসার লাভ থেকে অল্প সুদ-সহ ঋনের টাকা শোধ করা হয়। বান্দোয়ানের ওই স্বনির্ভর দলের সদস্য ভারতী কালিন্দী, বিন্দুবালা কালিন্দী, রতি কালিন্দী, হীরা কৈবর্ত, ঝর্ণা ভুঁইয়ারা সম্প্রতি বিডিওকে এক লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, দলনেত্রী পার্বতী দাস কয়েক মাস ধরে দলের বৈঠক ডাকেননি। সদস্যদের এড়িয়ে চলেছেন। সন্দেহ হওয়ায় ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করে তাঁরা জানতে পারেন, ১৩ এপ্রিল পার্বতীদেবী সমিতির নামে ১ লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছেন। একা দলনেত্রী কী ভাবে টাকা তুলেছেন জানতে চাইলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁদের সমিতির রেজুলেশনের কপি দেখান। ওই সদস্যদের অভিযোগ, সেই নথিটি জাল। বিডিওকে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, পার্বতীদেবীর পাল্টা অভিযোগ, যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মাস দুয়েক আগে তাঁদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এই অভিযোগ করার এক্তিয়ার তাঁদের নেই। তাঁর দাবি, টাকা পয়সা সংক্রান্ত যাবতীয় হিসাব খাতায় লেখা রয়েছে।
ভারতী কালিন্দী বলেন, ‘‘কোনও সভায় আমাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে প্রামাণ্য নথি নেই। পার্বতীদেবী তাঁর স্বামী মথন দাসের সাহায্য নিয়ে সমিতির টাকা নয়ছয় করেছেন।’’ বান্দোয়ানের বিডিও অমলেন্দু সমাদ্দার বলেন, ‘‘দলনেত্রী এ ভাবে টাকা তুলে ঠিক করেননি। ওঁকে এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা ব্যাঙ্কে ফেরত দিতে বলেছি।’’ তিনি জানান, টাকা জমা হয়ে গেলে নতুন করে দল গঠন করা হবে। ব্যাঙ্ককে বলা হয়েছে নতুন কমিটি গঠন হওয়ার পর নথিপত্র যাচাই করে যেন টাকা দেওয়া হয়।