Advertisement
E-Paper

ন’বছর পর শুকতারাকে ফিরে পেলেন মা! কন্যা নিখোঁজের শোক নিয়েই মৃত্যু হয়েছে অন্ধ বাবার

এ দিক-ও দিক খুঁজেও মেয়ের কোথাও কোনও খোঁজ পাননি বীরভূমের খয়রাশোল থানার পাঁচড়া পঞ্চায়েতের বড়কুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ওই মহিলা। তার পর পুলিশের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:০৭
Mother finds daughter after 9 years in Birbhum

মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার পর মা। —নিজস্ব চিত্র।

স্বামী দৃষ্টিহীন। মেয়ে মূক এবং বধির। সংসার চালাতে ছোট ছেলেকে নিয়ে কাজে বেরোতেন মহিলা। এক দিন কাজ সেরে বাড়ি ফিরে মা দেখেন, মেয়ে নেই! তন্ন তন্ন করে সারা গ্রাম খুঁজেছিলেন। কিন্তু কোথাও পাননি। থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করার পর ন’বছর কেটে গিয়েছে। হঠাৎ সেই হারানো মেয়ের খোঁজ পেলেন মা। খেলতে খেলতে হারিয়ে যাওয়া সেই বালিকা এখন তরুণী। হারিয়ে যাওয়া শুকতারাকে পেয়ে চোখের জল বাগ মানছে না কুরুনা দাসের। এমন খুশির মুহূর্তেও তাঁর দুঃখ একটাই— মেয়ে হারানোর শোক নিয়ে মারা গিয়েছেন তাঁর স্বামী।

কুরুনা জানান, সালটা ২০১৪। ন’বছর আগে এক দিন কাজ সেরে বাড়ি ফেরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে স্বামীকে তার কথা জিজ্ঞেস করেন। স্বামী দৃষ্টিহীন। তিনি জানান, মেয়ে তো বাড়ির সামনেই খেলছিল। এ দিক-ও দিক খুঁজেও মেয়ের কোথাও কোনও খোঁজ না পাননি বীরভূমের খয়রাশোল থানার পাঁচরা পঞ্চায়েতের বড়কুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ওই মহিলা। তার পর পুলিশের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছিল। কিন্তু মেয়েকে আর পাননি। এক সময় মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। হঠাৎ জানতে পারলেন তাঁর মেয়ে রয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের একটি হোমে। খবর নিয়েছিলেন পাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আসমা বিবি এবং তৃণমূলের পাঁচড়া অঞ্চল সভাপতি সন্তু মুখোপাধ্যায়। তাঁরা ওই হোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মেয়েকে ফিরে পেয়ে কুরুনা বলেন, ‘‘কী ভাবে মেয়ে হারিয়ে গিয়েছিল বলতে পারব না। কিন্তু আজ পঞ্চায়েত প্রধানদের জন্যই মেয়েকে ফিরে পেলাম। প্রধানদাই আমার সঙ্গে গিয়েছিলেন। উনি আমার হাতে তুলে দিলেন মেয়েকে।’’

পাঁচড়ার পঞ্চায়েত প্রধান আসমা বিবির সহায়তায় বুধবার রায়গঞ্জ থেকে বীরভূমের বাড়িতে ফিরেছে শুকতারা। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে শুকতারা এবং তাঁর মা কুরুনির হাতে কিছু আর্থিক সাহায্যও তুলে দেওয়া হয়েছে। মায়ের কাছে মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে পারে খুশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মায়ের পিছনে দাঁড়িয়ে শুকতারার মুখে হাসি খেলে যায়। মুখে কিছু বলতে পারেন না তিনি। কিন্তু মুখের রেখাতেই স্পষ্ট, কতটা খুশি শুকতারা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy