Advertisement
E-Paper

ওষুধের সঙ্গে রক্ত পরীক্ষাও

মণিহারা, শিয়ালডাঙা, ঘাটরাঙামাটি, পারবেদিয়া, ধবন, মনতোড়িয়ার মতো পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার সীমানা লাগোয়া অনেক গ্রামের বাসিন্দাদের মুশকিল আসান হয়ে উঠেছেন চিকিৎসক শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজস্ব সংবাদদাদা

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০১৮ ০৮:৪০
মণিহারা গ্রামে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র

মণিহারা গ্রামে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র

রোগী দেখার জন্য ডাক্তারবাবু কানাকড়িও নেন না। উপরন্তু বিনা খরচে মেলে ওষুধ। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে রোগ নির্ণয়ের বেশ কিছু পরীক্ষাও।

মণিহারা, শিয়ালডাঙা, ঘাটরাঙামাটি, পারবেদিয়া, ধবন, মনতোড়িয়ার মতো পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার সীমানা লাগোয়া অনেক গ্রামের বাসিন্দাদের মুশকিল আসান হয়ে উঠেছেন চিকিৎসক শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরুলিয়ার কাশীপুর ও বাঁকুড়ার ছাতনা সীমানা ছুঁয়ে থাকা মণিহারা গ্রামে মাসের প্রথম রবিবার আসেন তিনি। কলকাতা থেকে তিনশো কিলোমিটার পথ উজিয়ে। রোগীকে এক মাসের ওষুধ দেন নিখরচায়।

এত দিন রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করতে হত বাইরে। নিজের উদ্যোগে সেই ব্যবস্থাও করেছেন শান্তনুবাবু। নিয়ে এসেছেন ‘স্ট্যাটিক ল্যাব’ যন্ত্র। তাতে রক্তের প্রায় চোদ্দো রকমের পরীক্ষা হয়।

সম্প্রতি মণিহারা গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, শান্তনুবাবু রোগী দেখছেন। পাশের ঘরে যন্ত্রে রক্তের নমুনা সংগ্রহের কাজ করছেন তাঁর সহকারী সায়ন্তন পুরকায়স্থ ও দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা জানান, অনেক পরীক্ষাই নিখরচায় হয়। কিছু পরীক্ষার জন্য নামমাত্র খরচ নেওয়া হয়। সেটার ব্যাপারেও কোনও কড়াকড়ি নেই। যাঁরা পারেন না, টাকা দেন না। শান্তনুবাবু বলেন, ‘‘কোন পরীক্ষা করানোর কথা বললে এক মাস পরে রিপোর্ট হাতে পেতাম। চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই বেশ দেরী হয়ে যাচ্ছিল। তাই যন্ত্রটি আনার চেষ্টা করি।’’ তিনি জানান, এই ব্যাপারে কিছু শুভানুধ্যায়ী তাঁর পাশে দাঁড়ানোর কাজটা সহজ হয়েছে।

শান্তনুবাবু জানান, তাঁর বাবার আদি বাড়ি ছিল মণিহারায়। তিনিই ছেলেকে বলেছিলেন, গ্রামে এসে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এখন প্রতি মাসে তিনি গ্রামে আসেন। তাঁর বাবাও আসেন। রোগীদের নাম লেখেন। ওষুধ দেন। শান্তনুবাবুর স্ত্রী কোকিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পেশায় মেডিসিনের চিকিৎসক। স্বামীর সঙ্গে তিনিও প্রায়ই মণিহারায় আসেন। রোগী দেখেন।

রক্ত পরীক্ষার বন্দোবস্ত হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে বলে জানালেন শান্তনুবাবুর চেম্বারে আসা নারায়ণী বাউড়ি, মালা ভট্টাচার্যরা। তাঁরা বলেন, ‘‘ডাক্তারবাবু কোনও টেস্ট লিখলে আগে হয় চল্লিশ কিলোমিটার দূরের বাঁকুড়া সদরে যেতে হত। না হলে তিরিশ-বত্রিশ কিলোমিটার দূরে রঘুনাথপুরে। টেস্ট করিয়ে সেই একটা মাস অপেক্ষা— কবে ডাক্তারবাবু আসবেন। উনিই পরীক্ষার ব্যবস্থা করায় হয়রানি অনেক কমল।’’ ঘাটরাঙামাটি গ্রামের বাসিন্দা সুনীল মিশ্র বলেন, ‘‘এলাকার গরিব মানুষের বসবাস। চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। মাসের এই রবিবারটা এলাকার বাসিন্দাদের কাছে কত নির্ভরতার, তা আমরাই জানি।’’

আর ডাক্তারবাবু বলছেন, ‘‘সবাই যে খুশি, এটাই আমার পাওয়া।’’

Health Medical Treatment শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy