Advertisement
E-Paper

Poppy seeds: বাড়ছে দাম, পাতে পোস্ত প্রায় ‘ব্রাত্য’ 

দুই জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার পোস্তর দাম কেজিতে দু’হাজার টাকার আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:৪৫
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

পোস্তর সঙ্গে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। একটা সময়ে অনেক বাড়িতে ভাতের নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল পোস্ত। কিন্তু দাম বাড়তে বাড়তে পোস্ত এখন আকাশ ছোঁয়ায় অনেকেই পোস্ত ছাড়া, খাবার অভ্যাস করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ পোস্ত খেয়েছেন শুনলে বন্ধুদের কাছে টিপ্পনীও শুনতে হচ্ছে— ‘‘এই বাজারে পোস্ত খেয়েছিস!’’

দুই জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার পোস্তর দাম কেজিতে দু’হাজার টাকার আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। গত এক মাসে যা প্রায় ২০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাঁকুড়ার অন্যতম পাইকারি পোস্ত বিক্রেতা দেবেন্দ্র আগরওয়াল বলেন, ‘‘এক মাস আগে এক নম্বর পোস্তর দাম ছিল কেজিতে ১,৮০০ টাকা। এখন কেজি প্রতি বাইশশো টাকা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘কেন্দ্রের নীতিই এই দাম বাড়ার কারণ। এ রাজ্যে পোস্ত চাষ হয় না। বিদেশ থেকে পোস্ত আমদানি বন্ধ হয়েছে। বিদেশ থেকে পোস্ত এলে বাঙালির পাতে ৭০০ টাকা কেজির পোস্ত দেওয়া যেত। জোগান অপর্যাপ্ত বলেই দাম বেড়েছে।’’

খুচরো বাজারে দাম তুলনায় বেশি। বড়জোড়ার খুচরো ব্যবসায়ী কৃষ্ণদাস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এক মাস আগে এক নম্বর পোস্ত ২,২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। এখন তা ২,৪০০ টাকা কেজি হয়েছে।’’ বাঁকুড়ার এক কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক অতনু ঘোষ বলেন, ‘‘পোস্তর দাম কমাতে সরকারি নীতির পরিবর্তন প্রয়োজন। নিয়ন্ত্রিত ভাবে চাষ বাড়িয়ে পোস্তর জোগান বাড়ানো দরকার।’’

Advertisement

এক মাস আগে পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পোস্তর দাম ছিল কেজিতে ১,৬০০-১,৭০০ টাকা। এ দিন পুরুলিয়া, আদ্রা, রঘুনাথপুর, ঝালদার বিক্রেতাদের একাংশ জানান, পোস্তর দাম কেজিতে ১,৯০০-২,০০০ টাকা হয়েছে। ভাল মানের পোস্তর দাম কেজিতে ২,২০০ টাকা। বিক্রি কমায় খুচরো বিক্রেতারা বেশি পরিমাণে মজুত করছেন না। রঘুনাথপুরের দোকানি পার্থ চন্দ্র, ঝালদার বিক্রেতা অজিত দাসেরা বলছেন, ‘‘পোস্ত বিক্রি কমে অর্ধেক হয়েছে।’’ পুরুলিয়া শহরের পাইকারি বিক্রেতা গোপালচন্দ্র মাহাতোর দাবি, ‘‘পোস্তর আমদানি কমে যাওয়ায় দাম ক্রমশ চড়ছে।’’

দাম বাড়ায় হেঁশেলে পোস্তর ব্যবহারও কমেছে। বাঁকুড়া শহরের বধূ অন্তরা পাল বলেন, ‘‘এক সময় বাড়িতে নিয়মিত পোস্ত রান্না করা হত। দাম বাড়ার পরে ,সপ্তাহে তিন দিন পোস্তর রান্না হচ্ছিল। এখন সপ্তাহে এক দিন পোস্তর পদ রান্না করছি।’’ পাত্রসায়রের স্কুল শিক্ষক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘পাতে পোস্ত বাদ দেওয়া মুশকিল। তাই কোন কোন দিন পোস্তর সঙ্গে তিল মিশিয়ে বড়া খাচ্ছি।’’ পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা পবিত্র দৈবজ্ঞ বলেন, ‘‘আগে মাসে ৫০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম পোস্ত কিনতাম। এখন অর্ধেক কিনছি।’’ ঝালদার সৌরভ ঘোষালের আক্ষেপ, ‘‘পোস্ত না খেলে দুপুরে খেয়েছি বলে মনেই হত না। এখন অভ্যাস বদলাতে হচ্ছে।’’

পোস্তর বড়ার জন্য বিখ্যাত বিষ্ণুপুর শহরের একটি হোটেলের মালিক জিতেন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, গত এক মাস ধরে সাধারণ মিলে পোস্তর সব্জি দেওয়া বন্ধ রেখেছেন তাঁরা। কেউ আলাদা করে নিতে চাইলে তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পোস্তর বড়া ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে যে ভাবে দাম বাড়ছে, তাতে ৫০ টাকা করার কথা ভাবছেন। বাঁকুড়ার একটি হোটেলের মালিকও জানান, পদ হিসেবে আলু-পোস্ত তাঁরা বন্ধ করে দিয়েছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy