ডাল দেওয়া হবে রেশন দোকান থেকে। কিন্তু, সব প্রকার রেশন কার্ড গ্রাহকদের জন্য তা বরাদ্দ নয়। আগামী তিন মাস পরিবার পিছু এক কিলোগ্রাম করে ডাল বিনামূল্যে পাবেন শুধুমাত্র জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনার আওতাভুক্ত রেশনকার্ড গ্রাহকেরাই। জেলা খাদ্য দফতর জানিয়েছে, প্রথম মাসে ১ কিলো করে মুসুর ও পরের দু’মাস ১ কিলো করে মুগডাল বরাদ্দ হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকেই জেলার ৯৬৩ জন রেশন ডিলারের মাধ্যমে এই মুসুর ডাল বিলি শুরু হয়েছে। কিন্তু, রাজ্য খাদ্য সুরক্ষার আওতাভুক্ত রেশন কার্ড গ্রাহকরা যেহেতু ডাল পাচ্ছেন না, তাই এই বিষয়ে রেশন কার্ড গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি বা ভুলবোঝাবুঝি এড়াতে জেলার প্রতিটি রেশন দোকানের সামনে পোস্টার সাঁটিয়ে তা প্রচার শুরু করছে খাদ্য ও সুরক্ষা দফতর।
লকডাউন আংশিক শিথিল হলেও দিন আনি দিন খাই মানুষের রোজগার বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের খাবারের জোগান দিতে রেশনের মাধ্যমে চাল ও আটার মতো খাদ্যসামগ্রী বিনামূল্যে দেওয়ার জন্য বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার। প্রাপ্য চাল-আটার পাশাপাশি জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনার তিন প্রকার রেশন কার্ড গ্রাহক— অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (এএওয়াই), প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড (পিএইচএইচ ) এবং সুগার প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড (এসপিএইচএইচ) রেশন কার্ড থাকা গ্রাহকদের পরিবার পিছু এক কেজি করে ডাল বিনামূল্যে তিন মাস ধরে দেওয়ার ঘোষণা হয়েছে। তার আগেই সতর্কতা হিসেবে প্রতিটি রেশন দোকানে পোস্টার সাঁটিয়ে প্রচার শুরু দফতর।
কেন প্রচার করতে হচ্ছে?
জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনা বা এনএফএসএ চালুর পরে আর্থিক অবস্থা অনুসারে তিন ধরনের কার্ড দেওয়া হয়েছে। বীরভূম জেলায় এমন কার্ডের সংখ্যাটা প্রায় ২৭ লক্ষ। কিন্তু, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছিল, তাঁদের একাংশ সত্যিই খাদ্য সুরক্ষার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য ছিলেন। তাঁদের সকলেকে প্রকল্পের সুবিধার মধ্যে নিয়ে আসতে রাজ্য সরকার রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প, খাদ্যসাথী নিয়ে আসে। সেই যোজনায় কার্ড দু’ধরনের। গরিবদের জন্য আরকেএসওয়াই-১ এবং তুলনায় স্বচ্ছলদের জন্য আরকেএসওয়াই-২। এই মুহূর্তে জেলায় রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পে দেওয়া কার্ডের সংখ্যা সাড়ে ১৫ লক্ষেরও বেশি। এত সংখ্যক মানুষ (যাঁদের একটা বড় অংশই গরিব) বিনামূল্যের ডাল না পেলে এলাকার ডিলারদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পরতে পারেন—এই আশঙ্কা থেকেই প্রতিটি রেশন দোকানে পোস্টার সাঁটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য দফতর।
দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্ত্যোদয় অন্ন-যোজনা কার্ডের গ্রাহকেরা (পরিবার পিছু) মাসে ১৫ কিলো চাল ও ২০ কিলো আটা পান। প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড এবং সুগার প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড কার্ড পিছু ২ কিলো চাল এবং ৩ কিলো আটা। আরএসকেওয়াই ১ উপভোক্তারা সমপরিমাণ চাল ও আটা পান। লকডাউন শুরু হওয়ার পরেই রাজ্য সরকার ঘোষণা করে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনা ও রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-১ রেশন কার্ড গ্রাহকদের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস বিনামূল্যে ২ কিলোগ্রাম চাল এবং ৩ কিলোগ্রাম আটা দেওয়া হবে। পরের দিকে আরকেএসওয়াই উপভোক্তাদেরও বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হতে থাকে। এ ছাড়া কেন্দ্রের তরফে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনায় রেশনকার্ড গ্রাহকদের মাথা পিছু অতিরিক্ত ৫ কিলোগ্রাম চাল এবং পরিবার পিছু ১ কিলোগ্রাম করে ডাল বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা হয়। কেন্দ্রের বরাদ্দ অতিরিক্ত চাল মে মাস থেকেই বণ্টন শুরু হয়েছিল।
তবে, ডাল বণ্টন শুরু হয়নি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে এই ডাল বণ্টন শুরু হল। জেলা খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসে মুসুর দেওয়ার জন্য ৬৭৪ মেট্রিক টন ডাল বরাদ্দ হয়েছে। এবং ডিলারদের কাছে পৌঁছেছে। এ দিন থেকে বিলি হওয়া ডাল ওজনে কম বা মান নিয়ে সমস্যা থাকলে সেটা দফতরে জানাতে পারবেন গ্রাহকেরা।