নিয়মিত মধুচক্রের আসর বসে হোটেলে। কিছু দিন ধরে ওই খবর পেয়ে তক্কে তক্কে ছিল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার রাতে জয়রামবাটির একের পর এক হোটেলে অভিযান চালিয়েছে তারা। হাতেনাতে প্রমাণ মেলায় তিনটি হোটেল ‘সিল’ করে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে সাত জন মহিলাকে। গ্রেফতার করা হয়েছে হোটেলগুলির মালিক, ম্যানেজার, কর্মী এবং এক আবাসিক মিলিয়ে মোট ছ’জনকে।
বাঁকুড়ার পবিত্র তীর্থস্থান হিসাবে পরিচিত জয়রামবাটি। সম্প্রতি ব্যাঙের ছাতার মতো ওই এলাকা জুড়ে গজিয়ে উঠেছে হোটেল এবং লজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কিছু হোটেল এবং লজে নানাবিধ ‘অসামাজিক কাজ’ হয়। নিয়মিত মধুচক্র চলে কয়েকটি হোটেল এবং লজে। শনিবার রাতে তিনটি দলে ভাগ হয়ে জয়রামবাটিতে হানা দেয় বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। মধুচক্র চালানোর প্রমাণ হাতেনাতে মেলায় হোটেলগুলি থেকে গ্রেফতার হন মোট ছ’জন।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে হোটেলমালিক যেমন রয়েছেন, তেমনই আছেন ম্যানেজার এবং কর্মী। ধৃতদের রবিবার বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হলে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানায় পুলিশ। পাশাপাশি ওই হোটেল থেকে যে মহিলাদের ‘উদ্ধার’ করা হয়েছে, তাঁদের গোপন জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিষ্ণুপুরের এসডিপিও মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিশেষ সূত্রে খবর পাওয়ার পরে শনিবার রাতে পদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে জয়রামবাটির মেঘা, কল্পতরু ও সিংহবাহিনী এই তিনটি লজে হানা দেওয়া হয়। ওই তিনটি লজ থেকে সাত জন মহিলাকে উদ্ধারের পাশাপাশি অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছ’জনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের আবেদন, এমন অবৈধ কাজের খবর পেলে আমাদের জানান। বাঁকুড়া জেলা পুলিশ এমন সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সর্বদা প্রস্তুত।’’