Advertisement
E-Paper

ঝড়ে উড়ল দেড় হাজার ঘরের চাল

কয়েক মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল দেড় হাজার বাড়ির টিন ও খড়ের ছাউনি। লন্ডভন্ড হয়ে গেল কৃষি-জমি, বাগান, খামার। ঘরের চাল চাপা পড়ে আহত হন অনেকে। বুধবার রাত্রি নটায় মহম্মদবাজার এলাকার ঘটনা। বিডিও তারাশঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘সব মিলিয়ে হাজার দেড়েক বাড়ির টিনের ও খড়ের ছাউনি উড়েছে ঝড়ে। পরিবারগুলিকে নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে বলা হয়েছে।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০১৬ ০১:০০
কালবৈশাখীর ঝড়ে নুইয়ে পড়েছে মাঠের পাকা ধান। বৃহস্পতিবার সকালে সাঁইথিয়ার বড়া গ্রামে তোলা নিজস্ব চিত্র।

কালবৈশাখীর ঝড়ে নুইয়ে পড়েছে মাঠের পাকা ধান। বৃহস্পতিবার সকালে সাঁইথিয়ার বড়া গ্রামে তোলা নিজস্ব চিত্র।

কয়েক মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল দেড় হাজার বাড়ির টিন ও খড়ের ছাউনি। লন্ডভন্ড হয়ে গেল কৃষি-জমি, বাগান, খামার। ঘরের চাল চাপা পড়ে আহত হন অনেকে। বুধবার রাত্রি নটায় মহম্মদবাজার এলাকার ঘটনা। বিডিও তারাশঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘সব মিলিয়ে হাজার দেড়েক বাড়ির টিনের ও খড়ের ছাউনি উড়েছে ঝড়ে। পরিবারগুলিকে নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে বলা হয়েছে।’’

দিন তিনেক আগে সামান্য ঝড় ও কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি হয় ঠিকই। কিন্তু তাতে গরম আবহাওয়ার তেমন পরিবর্তন হয়নি। অবশেষে বুধবার সন্ধ্যা রাত্রে সেই কালবৈশাখী - বৃষ্টির দেখা মিলল। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহম্মদবাজারের পুরাতন গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরাতন গ্রাম, রাউতড়া, রানিপুর, তেঁথুলিয়া-সহ এলাকার বেশ কিছু গ্রামের উপর দিয়ে বুধবার আচমকা ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। কিছু বোঝার আগেই লন্ডভন্ড করে দেয় কয়েকটি গ্রাম। ঝড়ে বেশ কিছু বাড়ির টিনের ও খড়ের চাল উড়িয়ে নিয়ে চলে যায়। অনেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত সেই চাল খুঁজে পাননি। কারও বাড়ির চালা ভেঙে পড়ে মাথায়। ক্ষতি হয় ধান, তিল-সহ রবি শষ্যের। পুরাতন গ্রাম ছাড়াও, বুধবারের ঝড়ে সেকেড্ডা, রামপুর, গণপুর অঞ্চলেরও বেশ কিছু গ্রামে টিন ও খড়ের ছাউনি দেওয়া চাল উড়ে গিয়েছে।

উড়ে এসেছে অন্যের বাড়ির টিনের চাল। উঠোনে পড়ে আরও একটি। রাউতোড়া গ্রামে। —নিজস্ব চিত্র

Advertisement

রাউতড়া গ্রামের দিনমজুর পরিবারের হাসমৎ শেখ, কাজীমৎ শেখ, বামা শেখ, বাবু শেখদের বাড়ির টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে যায় ঝড়ে। তাঁরা বলেন, ‘‘কোথাও কিছু নাই, সবে খেতে বসব, এমন সময় হঠাৎ ঘূর্ণি ঝড় উঠল। কি করব না করব ভাবতে ভাবতেই বাড়ির টিনের ছাউনি দেওয়া চাল উড়িয়ে নিয়ে চলে যায়। পরিবারের সকলের রাত্রের খাওয়া-দাওয়া মাথায় ওঠে। মিনিট ৭-১০ এর ঘূর্ণি ঝড় থামতেই শুরু হয় দমকা হাওয়া, সঙ্গে বৃষ্টি।’’

মাঝ বয়সি নাহানুর বিবির বাড়ির চাল ভেঙে মাথায় পড়ে। তাঁর শরীরে আঘাত লাগে। পাশের রানিপুর গ্রামের অজিলা বিবি সে সময় রান্না করছিলেন। হঠাৎ খড়ের চাল ভেঙে তার উপর পড়ে। মাথা ও পায়ে জোর আঘাত লাগে। তাঁর স্বামী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘‘ঝড় বৃষ্টি থামলে স্ত্রীকে প্যাটেলনগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে ছাড়ে।’’ টিনের বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে কারিবুল শেখ, ধুমসাদ শেখ, মূরশেলিম শেখদেরও। তাঁরা বলেন, ‘‘আমাদের গ্রামের অনেকগুলি টিন ও খড়ের বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে।’’ তিনটি গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য আবুল কালাম জানান, তিনটি গ্রাম মিলিয়ে কম-বেশি প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy