প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিঠি নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছনোর লক্ষ্য সামনে রেখে মঙ্গলবার থেকে পুরুলিয়া জেলা জুড়ে ‘সম্পর্ক অভিযান’ কর্মসূচিতে নামল বিজেপি। এ দিন হুড়ার করণডি থেকে ওই কর্মসূচি শুরু হয় সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর হাত ধরে।
দল সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘আমার সহকর্মী ভারতবাসী সম্বোধনে’ ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ২০১৪ সালের পরে কী ভাবে প্রশাসন গতানুগতিক জড়তা কাটিয়ে দুর্নীতি আর কুশাসন থেকে মুক্ত হয়েছে দেশ। ২০১৪-’১৯ এই পাঁচ বছরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাসের সংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ, শৌচাগারের ব্যবস্থা, সকলের জন্য গৃহ— প্রভৃতি যে সমস্ত উন্নতি হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর কথাও। তিন তালাক প্রথার অবসান থেকে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করা, এমনকি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাসিক তিন হাজার টাকা করে পেনশনের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে।
দলের জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সই করা ছাপানো ওই চিঠি নিয়ে আমাদের কর্মীরা জেলার প্রতিটি বুথে বাড়ি-বাড়ি যাবেন। লোকজনের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পরে, ওই চিঠি তাঁদের হাতে দেওয়া হবে। তিনি জানান, রাজ্য নেতৃত্ব তাঁদের দু’লক্ষ পরিবারের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা দিলেও তাঁরা জেলায় ২,৪৯৪টি বুথের চার লক্ষ বাড়িতে যাবেন বলে ঠিক করেছেন।
জেলা রাজনীতির ওঠাপড়ার নিয়মিত পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখেই মানুষের কাছে পৌঁছতে বিজেপির এই কর্মসূচি।
‘সম্পর্ক অভিযান’-এ কী-কী করতে হবে, সামাজিক মাধ্যমে তা বুথ স্তরের কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা দলের জেলা সম্পাদক কমলাকান্ত হাঁসদা। দল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বুথে যত বেশি সম্ভব ‘হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ’ তৈরি করা, যত বেশি সম্ভব মানুষকে তাতে জোড়া, প্রধানমন্ত্রীর চিঠি নিয়ে বাড়ি-বাড়ি যাওয়া, বাড়ির কর্তার নাম ও ফোন নম্বর লিখে রাখা, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সম্পর্কে তাঁদের মতামত শোনা, বাড়িতে কোনও পরিযায়ী শ্রমিক থাকলে তাঁর কথা শোনা ইত্যাদি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের জেলা সম্পাদক আবদুল আলিম আনসারি বলেন, ‘‘প্রতিদিন কত পরিবারের কাছে যাওয়া হল, তা জেলা নেতৃত্বকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’