জেলার দুই প্রান্তে বিজেপি-র দুই নেতা-নেত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপি-র অভিযোগ, তৃণমূল যে ‘খেলা হবে’-র স্লোগান তুলেছে, এই ধরনের হামলার তারই পরিণাম। যদিও দুই জায়গাতেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দল।
খয়রাশোল গ্রাম পঞ্চায়েত ভবনে স্বনির্ভর দলের এক বৈঠকে ডেকে জেলা বিজেপি-র এক নেত্রীকে মারধর ও শ্লীলতহানি করার অভিযোগ উঠেছে বুধবার বিকেলে। খয়রাশোল থানা প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ নিতে গড়িমসি করেছে, এই অভিযোগে এবং দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে পথ অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। বিজেপি মহিলা মোর্চার জেলা সহ-সভানেত্রী সুতপা মণ্ডল খয়রাশোলের একটি স্বনির্ভর দলের সদস্য। তাঁর অভিযোদের তির খয়রাশোল পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী অসীমা ধীরব, খয়রাশোল পঞ্চায়েত প্রধান অর্চনা দাস ও তাঁর স্বামী মনোজ দাসের দিকে।
সুতপাদেবীর অভিযোগ, ‘‘এ দিন বিকেলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বৈঠক আছে জানিয়ে প্রধান আমাকে ডেকেছিলেন। বিরোধী নেত্রী য়, স্বনির্ভর দলের সদস্য হিসেবেই গিয়েছিলাম। কিন্তু, গিয়ে জানতে পারি, সামনে তৃণমূলের মহিলা মোর্চার সম্মেলনে লোক নিয়ে যেতে হবে বলে ডাকা হয়েছিল।’’ সুতপাদেবীর দাবি, তিনি সেই কাজ করতে অস্বীকার করেন। সেই প্রধান ও তাঁর স্বামী এবং অসীমাদেবী তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। শ্লীলতাহানিও করা হয়। তিনি বলেন, ‘‘খয়রাশোলে বিজেপির সংগঠন মজবুত করার জন্যই এই হামলা।’’
অসীমা দেবী অভিযোগ উড়িয়ে দাবি করছেন, নিজের স্বামীকে ডেকে তাঁদেরই বরং মারধর করিয়েছেন সুতপাদেবী। অসীমাদেবী বলেন, ‘‘এর পরেই শুনলাম উনি থানায় গিয়েছেন। খেলা শুরু করেছেন উনি, আমরা শেষ করব।’’ যা শুনে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, বিকেলে মার খেলেও তৃণমূল কেন চুপ করে বসেছিল। আসলে পুরোটাই নাটক।
অন্য দিকে, বুধবার দুপুরে সিউড়ি ২ ব্লকের কোমাপঞ্চায়েতের উত্তর মেটে গ্রামে এক বিজেপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিজেপির সিউড়ি ২ (এ) মণ্ডলের এসসি মোর্চার সভাপতি অশ্বিনী দাস সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিজেপির অভিযোগ, অশ্বিনীর নেতৃত্বে কয়েক জন বিজেপি কর্মী তারাপীঠে জে পি নড্ডার সভায় গিয়েছিলেন। সেই নিয়ে তৃণমূলের রাগ ছিল। এ দিন দুপুরে বাড়ির সামনে গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মীরা এক জনের সঙ্গে অশান্তি করছিলেন। অশ্বিনীর অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের কিছু লোক আমাদের এক কর্মীর বাড়িতে অহেতুক অশান্তি করছিল। প্রতিবাদ করলে মারধর করে, হাত ভেঙে দেয়।’’
বিজেপির সিউড়ি ২ ব্লক মণ্ডলের সভাপতি নীলমাধব মণ্ডল বলেন, ‘‘অনুব্রত মণ্ডল বলছেন, খেলা হবে। সেটা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ কথা। এই ঘটনা সেই খেলারই নমুনা। অশ্বিনীর পরিবারের লোকজন থানায় অভিযোগ করবে।’’ এ দিন সিউড়ি ২ ব্লকেই দলের মহিলা কর্মী সম্মেলনে হাজির ছিলেন অনুব্রত। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ করছে। উল্টে ওরাই এ দিন আমাদের গাড়ি আটকেছে। আমি মারধরের রাজনীতি করি না।’’