তৃণমূলের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটে বাঁকুড়ার সারেঙ্গা ব্লকের বিক্রমপুর পঞ্চায়েত হারাল বিজেপি।
১১ সদস্যের এই পঞ্চায়েতের ছ’টি আসন জিতে বোর্ড গঠন করেছিল বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছিল তিনটি ও নির্দল পেয়েছিল দু’টি আসন। পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় থেকেও মানুষের জন্য কাজ করতে না পারার অভিযোগে গত ১৫ মে ওই পঞ্চায়েতের বিজেপির তিন সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় বিজেপি। পরে, তৃণমূল সারেঙ্গা ব্লক প্রশাসনের কাছে বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি দেয়।
তার প্রেক্ষিতে শুক্রবার বেলা ১২টা নাগাদ ওই পঞ্চায়েত ভনের চারপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ভোট হয়। তাতে তিন জন বিজেপি ও দু’জন নির্দল সদস্য তৃণমূলের পক্ষে ভোট দেন। তৃণমূলের পক্ষে ভোট পড়ে আট জনের। বিজেপির পক্ষে ভোট পড়ে তিন জনের।
বিডিও (সারেঙ্গা) ফাহিম আলম বলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ ভাবেই আস্থাভোট সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্চায়েতের নিয়মানুয়ায়ী, শীঘ্রই সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষকে প্রধান নির্বাচন করতে বলা হবে।’’ সারেঙ্গা ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুব্রতকুমার মিশ্র জানান, শীঘ্রই তাঁরা প্রধান নির্বাচন করবেন।
বিক্রমপুর পঞ্চায়েতের বিদায়ী বিজেপি প্রধান লক্ষ্মণ কিস্কুর অভিযোগ, ‘‘ওই তিন সদস্য তৃণমূলের কাছে আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছেন। তাই এ দিন তাঁরা তৃণমূলের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন।’’ অভিযোগ উড়িয়ে সারেঙ্গা ব্লক তৃণমূল সভাপতির দাবি, ‘‘আমাদের দলের দুর্দিন আসেনি যে পঞ্চায়েত সদস্যদের কিনে আমাদের প্রধান নির্বাচন করতে হবে। বিজেপির মিথ্যাচার মানুষ আজ বুঝতে পেরেছেন। তাই অনেকেই দল ছাড়ছেন।’’ বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগদানকারী সুন্দরী হেমব্রম, নিয়তি মল্ল, শিবদাস সিং-এর দাবি, ‘‘পঞ্চায়েতে আমাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না। এলাকার উন্নয়নের জন্য মানুষ আমাদের নির্বাচিত করেছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে শামিল হতে আমরা তৃণমূলকে সমর্থন জানিয়েছি।’’ একই দাবি নির্বাচিত দুই নির্দল সদস্যেরও।
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্রের দাবি, ‘‘কাউকে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। তৃণমূলের ভয়ে ওই তিন জন দল বদলেছেন। এ দিন তৃণমূলের উদ্দেশ্য চরিতার্থ হল।’’