আয়ের দিশা দিতে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে পুরুলিয়ার মানবাজার ১ চক্রের গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আদিবাসী অধ্যুষিত ওই এলাকার স্বনির্ভর দলের ১২ জন মহিলাকে শুক্রবার থেকে তিন দিনের ‘জাঙ্ক জুয়েলারি’ তৈরির প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণ শিবিরে গিয়ে বিডিও (মানবাজার ১) মনোজকুমার পাহাড়ি বলেন, ‘‘মহিলারা এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতেই ‘জাঙ্ক জুয়েলারি’ তৈরি করতে পারবেন। এতে তাঁরা বাড়তি আয় করতে পারবেন।’’ যুগ্ম বিডিও রাজীব মুর্মু জানান, যাঁরা এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তাঁরা অন্যদের এই কাজ শেখাবেন।
কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে। তাঁরাই কাঁচামাল দিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করেছেন। প্রশিক্ষক প্রিয়ঞ্জিতা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘গ্রাম-বাংলাতেও আজকাল সাধারণ গয়নার বদলে ‘জাঙ্ক জুয়েলারি’র কদর বাড়ছে। এই কাজ করেই গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা সম্ভব।’’
মানবাজারের ধানাড়া পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা জেলা স্তরের প্রশিক্ষক মিঠু মণ্ডলও এ দিন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘জাঙ্ক জুয়েলারির নিত্য নতুন নকশা খদ্দেরদের চাহিদা বাড়ায়। আমরা নতুন ধরনের নকশাযুক্ত গয়না তৈরির উপরে জোর দিচ্ছি।’’ ওই সংস্থার সদস্যেরা জানান, তৈরি করা জাঙ্ক জুয়েলারি স্থানীয় বিভিন্ন উৎসব ও মেলায় বিক্রি করা যাবে। তেমন হলে, কলকাতাতেও গয়না বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।
স্বনির্ভর দলের সদস্য সুনীতা মাঝি, রিঙ্কু রজকেরা বলেন, ‘‘বর্তমান প্রজন্মের মেয়েদের চাহিদা অনুযায়ী, গয়নার নতুন ধরনের নকশা শেখায় আমরা জোর দেব।’’ গোবিন্দপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিতাভ মিশ্র জানান, এর আগে তাঁদের স্কুলে মাশরুম চাষ-সহ অন্য ধরনের প্রশিক্ষণ হয়েছে। গয়না তৈরি দেখতে মহিলা অভিভাবকেরাও স্কুলে এসেছিলেন।