টুপি নয়
খাতড়া
রাজনীতিতে একেবারেই আনকোরা নতুন মুখ। দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাই তাঁকে চেনেন না। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জ্যোৎস্না মান্ডি তাই ছোট ছোট কর্মী বৈঠক করে নিজের পরিচয় পর্ব সারছেন। এ দিন দুপুরে খাতড়ার কালীমন্দিরে আসেন তিনি। সেখান থেকে প্রচার শুরুর আগে এক কর্মী প্রার্থীর কাছে আবদার করলেন, “চড়া রোদ। আরও বাড়বে। মাথা বাঁচাতে টুপি চাই।” তৃণমূল প্রার্থীর হাসতে হাসতে জবাব, “আমি কাউকে টুপি পরাতে পারব না। আপনারাও টুপি পরবেন না।” হাসির রোল উঠল কর্মীদের মধ্যে।
ফ্লেক্স উধাও
সিমলাপাল
দেওয়াল লিখন। বাঘমুণ্ডির সিরকাবাদে।—নিজস্ব চিত্র
দু’দিন আগে তালড্যাংরা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে ফ্লেক্স লাগানো হয়েছিল সিমলাপালে। সেই ফ্লেক্স রাতের অন্ধকারে চুরির অভিযোগ উঠল। সিমলাপাল ব্লক তৃণমূল নেতা রামানুজ সিংহ মহাপাত্র মঙ্গলবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দলের প্রার্থী সমীর চক্রবর্তীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছিল সিমলাপাল-ভূতশহর ও সিমলাপাল–ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কে। এ দিন সকালে দেখছি অধিকাংশ ফ্লেক্স উধাও।”
কর্মীই সম্পদ
মানবাজার
ভোটের রণকৌশল ঠিক করতে মঙ্গলবার বিধানসভা এলাকার কর্মীদের নিয়ে মানবাজারে পোস্ট অফিস মোড়ে দলীয় অফিসে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডু। কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের আঁচ পেয়ে প্রথমেই তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের একাংশের অভিমানের কথা জানি। আমি সবার কথা শুনব। ব্যস্ততার কারণে সবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে পারিনি। দল থাকলেই আমি থাকব। কর্মীরাই তো দলের প্রধান সম্পদ। লড়াইয়ে সবাইকে একজোট হয়ে থাকতে হবে।’’ বৈঠক শেষে সন্ধ্যারানি সন্তুষ্ট। কিন্তু কর্মীদের ক্ষোভ কি কমল? এক কর্মীর জবাব, ‘‘ভোটের ফলেই জবাব মিলবে।’’
তুলি হাতে
বান্দোয়ান
তাঁর নাম ঘোষণা হয়েছে সোমবার। আর মঙ্গলবার তিনি কর্মীদের সঙ্গে রং, তুলি নিয়ে নিজেই দেওয়াল লিখতে নেমে পড়লেন বান্দোয়ানের সিপিএম প্রার্থী সুশান্ত বেসরা। বিদায়ী বিধায়ক সুশান্তবাবু ভাল ভাবেই জানেন, হাতে সময় নেই। দেওয়াল লিখন, পোস্টার সাঁটানোর পরে গ্রামে গ্রামে প্রচার, সভা-সমিতির জন্য সময়টা খুবই কম। তাই মঙ্গলবার নিজের এলাকা বোরো থানার জামতোড়িয়া বাজারে দেওয়াল লিখন সারলেন। তিনি বলেন, ‘‘২৫টি অঞ্চলে টানা প্রচারের জন্য সময় বেশি নেই। তাই কর্মীদের নিয়ে নিজেই নেমে পড়েছি। তাতে ওঁরাও উৎসাহ পাবেন।’’
রুটমার্চ
রঘুনাথপুর
ভোটারদের মনোবল বাড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী রুট মার্চ করল রঘুনাথপুরে। মঙ্গলবার প্রথমে জওয়ানদের নিয়ে রঘুনাথপুর থানার ঝাড়ুখামার, ধটাড়া, লছমনপুর গ্রামে রুট মার্চ করানো হয়। ছিলেন রঘুনাথপুরে সিআই রবিশঙ্কর রায়, রঘুনাথপুরের ওসি দীপঙ্কর সরকার। পরে বিকালে রুট মার্চ হয় রঘুনাথপুর শহরে। সেখানে ছিলেন রঘুনাথপুরের এসডিপিও অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে আধাসামরিক বাহিনী রুট মার্চ করেছে রেলশহর আদ্রায়। অ্যাডভান্স ফোর্স হিসাবে বিএসএফের এক কোম্পানি জওয়ানকে পাঠানো হয়েছে রঘুনাথপুর এলাকায়।
নেই প্রার্থী নেই মাইক
প্রচারে নেই মাইক। নেই সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীও। আর সেই নিয়েই, একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন দলীয় কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে, ওয়ার্ডের ভোটররা। বোলপুর পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের পাড়ায় পাড়ায় তাই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে শোনা গেল মহিলাদের। কি কারণে এহেন প্রচার, কেউ কেউ অত্যুত্সাই জানতেও চাইলেন। প্রচারের অন্যতম উদ্যোক্তা চার নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সেলার সুকান্তবাবুর সংক্ষিপ্ত জবাব, নারী দিবসে একটু অন্য রকমের প্রচার। ভুল ভাঙলেন এক মহিলাকর্মী। আসলে অনুমতি নেই মাইক বাজানোর। আর প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহও বলেছেন আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রচার শুরু হবে শুক্রবার থেকে। বোলপুরে সন্ধ্যার প্রচার তাই, মাইক বিহীন এবং প্রার্থী বিহীন!
দেওয়ালে লেখা নাম
মাস দু’য়েক আগেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল দখল করে রেখেছিল কর্মীরা। অতি উৎসাহীরা কয়েকটি জায়গায় আগাম দেওয়ালে ঘাসফুল চিহ্ন রেখে কোথাও প্রার্থীর নাম উহ্য রেখে ভোট দেওয়ার আবেদনও জানায়। সোমবার থেকে সেই সমস্ত শূন্যস্থানগুলিতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, বুধবার বিকেলে দলীয় কর্মীদের নিয়ে মিছিলের মাধ্যমে কার্যত শহরের পথে নেমে প্রচার শুরু করবেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোটের ভরসা
বানিওড় গ্রামে মঙ্গলবার দলীয় কর্মীদের সমর্থনে মিছিলে অংশগ্রহণ করে কার্যত ভোট প্রচার শুরু করলেন দীপক চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সমর্থনে এ দিন মুরারই থানার কুশমোড় ১ ও ২ এই দুই পঞ্চায়েতের কর্মীরা এবং বড়লা পঞ্চায়েতের অধীন দলীয় কর্মীরা মিছিল বের করেন। প্রার্থী এ দিন বলেন, ‘‘কর্মীদের প্রতি আমার ভরসা আছে।’’