Advertisement
E-Paper

ইউনিট বন্ধ, ক্লিনিকে ব্যস্ত কর্মী

সরকারি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক্স-রে ইউনিট বন্ধ। সেই কেন্দ্রের টেকনিশিয়ান কাজ করছেন বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে। এই মর্মে অভিযোগ তুলে বিএমওএইচ এবং ওই টেকনিশিয়ানকে ঘেরাও করে রাখলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বুধবার সকালে দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালের ঘটনা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০১৬ ০০:১৩
দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বাসিন্দারা। (ইনসেটে) বন্ধের নোটিস। —নিজস্ব চিত্র।

দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বাসিন্দারা। (ইনসেটে) বন্ধের নোটিস। —নিজস্ব চিত্র।

সরকারি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক্স-রে ইউনিট বন্ধ। সেই কেন্দ্রের টেকনিশিয়ান কাজ করছেন বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে। এই মর্মে অভিযোগ তুলে বিএমওএইচ এবং ওই টেকনিশিয়ানকে ঘেরাও করে রাখলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বুধবার সকালে দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালের ঘটনা। প্রায় দু’ঘণ্টা ঘেরাওয়ের পর বেলা দেড়টা নাগাদ বিএমওএইচ সোমনাথ অধিকারী পরিষেবা স্বাভাবিক ভাবে চালানোর আশ্বাসে বিক্ষোভ থামে।

হাসপাতাল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দা শেখ তাজউদ্দিন, সুরেশ ডোম, শেখ রাজেশ, শেখ বাপ্পারা এ দিনের বিক্ষোভে সামিল ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের এক্স-রে ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান গণেশচন্দ্র পাল প্রায় দিনই ইউনিটটি নিজের ইচ্ছে মতো বন্ধ রাখেন। ইউনিট খোলা থাকলেও নানা অছিলায় ওই টেকনিশিয়ান রোগীদের ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। এ দিন সাকাল থেকে এক্স-রে করাতে এসে রোগীরা ফিরে যাচ্ছিলেন। তা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, এক্স-রে ইউনিটটি এ দিন বন্ধ থাকবে বলে ইউনিটের বাইরে নোটিস টাঙিয়ে রেখেছেন গণেশবাবু। সেই নোটিশে বিএমওএইচের সই ছিল না। বিক্ষোভকারীদের দাবি, টেকনিশিয়ান গনেশবাবু ঠিক সেই সময়েই হাসপাতালের বাইরে একটি বেসরকারি এক্স-রে ক্লিনিকে টেকনিশিয়ান হিসাবে কাজ করছিলেন। অভিযুক্ত টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিএমওএইচকে ঘেরাও করেন তাঁরা। এ দিকে স্থানীয় বাসিন্দারের একাংশের অভিযোগ, শুধু এক্স-রে ক্লিনিক নয়, হাসপাতালের ইসিজি ইউনিটটিরও একই অবস্থা।

হাসপাতালের ওই ইউনিটটি নিয়ে এলাকার মানুষের যে অনেকদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে, সে কথা স্বীকার করেন বিএমওএইচ সোমনাথবাবু। তিনি বলেন, ‘‘রোগীরা যে ঠিক মতো পরিষেবা পাচ্ছেন না সে কথা আমার অজানা ছিল না। ওই টেকনিশিয়ানকে আগে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু উনি কান দেননি।’’ সোমনাথবাবুর দাবি, এ দিন ওই টেকনিশিয়ান নিয়ম মেনে ছুটি নেননি। হাসপাতাল সূত্রের খবর, ইউনিট বন্ধ থাকার কথা বিএমওএইচ এবং হাসপাতালের অন্য চিকিৎসেরা জানতেনই না। এ দিন বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর গণেশবাবুকে ডেকে পাঠান বিএমওএইচ। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়। অবশ্য যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই গনেশচন্দ্র পাল অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর শরীর খারাপ থাকায় তিনি কাজে যোগ দিতে পারেননি। এ দিন তাঁর না থাকার কথা আগে থেকেই বিএমওএইচ-কে জানিয়েছিলেন বলে পাল্টা দাবি করেন তিনি। ছুটি নেওয়ার পরও খয়রাশোলের ভীমগড়ের বাড়ি থেকে দুবরাজপুরের ওই ক্লিনিকে এসেছিলেন কেন? গনেশবাবুর দাবি, এ দিন নিজের রক্ত পারীক্ষার জন্য তিনি ওই ক্লিনিকে এসেছিলেন। তবে ওই ক্লিনিকে অস্থায়ী ভাবে কাজ করার কথা অবশ্য স্বীকার করেন গনেশবাবু।

Advertisement

এ দিন দূর থেকে সারাকরি হাসপাতালে এক্স-রে করাতে এসে ঘুরে যেতে হওয়ায় ক্ষুব্ধ নাসিমা বিবি, কাজি লালরা। নাসিমা জানান, তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে হুইল চেয়ার থেকে পড়ে হাতে চোট পেয়েছে। চিকিৎসক এক্স-রে কারানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু এ দিন ছেলেকে নিয়ে এসে হয়রান হয়ে ঘুরে যেতে হয় তাঁকে। বুকে সংক্রমণ হওয়ায় এই হাসপাতালের চিকিৎসকই কাজি লালকে বুকের এক্স-রে করিয়ে আনতে বলেন। কাজি বলেন, ‘‘গরিব মানুষ। বাইরে থেকে এক্স-রে করানোর টাকা পাব কোথায়!’’ এ দিন এই দু’জনের মতো আরও অনেক রোগীকেই পরিষেবা না পেয়ে ফিরতে হয়।

ঘটনার কথা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি। তিনি বলেন, ‘‘ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জার। ওই টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy