ঘটা করে উদ্বোধন হচ্ছে। নিত্য দামি যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। অথচ উদ্বোনের পরেও ওই সমস্ত ইউনিটে মেলে না কোনও পরিষেবা!
এই বেহাল স্বাস্থ্য চিত্র রামপুরহাট জেলা হাসপাতালের। বৃহস্পতিবারও ফের এই হাসপাতালেই উদ্বোধন হল একটি ডিজিটাল এক্স-রে ইউনিটের। যার জন্য ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ৯৫ হাজার ৯২৭ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিম মেদিনীপুরের নয়াগ্রামে এই ইউনিটের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। রামপুরহাট হাসপাতালের বর্হিবিভাগের পাশে সেই উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান মঞ্চ তৈরি করা হয়। সেখানে ছিলেন রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতি মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক অসিত মাল, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি, রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ব্রজেশ্বর মজুমদার, রামপুরহাট জেলা হাসপাতাল সুপার সুবোধ কুমার মণ্ডল-সহ স্বাস্থ্য দফতরের অন্যান্য আধিকারিকরা।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিষেবা মেলে না, অথচ একের পর এক ইউনিটের উদ্বোধন হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিজিটাল এক্সরের জন্য ইতিমধ্যেই পরিকাঠামো তৈরির জন্য খরচ হয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে ঘর তৈরি করার জন্য পূর্ত দফতরের সিভিল বিভাগের মাধ্যমে ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৪১ টাকা, পূর্ত বিভাগের ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের মাধ্যমে ৩ লক্ষ ৪০ হাজার ৭২৭ টাকা এবং ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনপত্রের জন্য খরচ হয়েছে ১ কোটি ৮ লক্ষ ৩৯ হাজার ৭৫৭ টাকা। এছাড়াও সাইট প্রস্তুতি-সহ ইন্টিরিয়র ডেকোরেশন ও শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বসাতে ২লক্ষ ৩৩ হাজার ৬৩২ টাকা খরচ করা হয়েছে।
মেশিন বসাতে ও ডিজিটাল এক্স-রে রুমের ইন্টিরিয়র ডেকোরেশন-সহ সমস্ত কাজের দায়িত্ব একটি বেসরকারি সংস্থার হাতে ছিল। রাজ্য সরকারের সঙ্গে ব্যারাকপুরের একটি বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ওই ইউনিট নির্মাণ হয়েছে। ব্যারাকপুরের ওই সংস্থা ইউনিট দেখভাল করবেন। ঠিক হয়েছে, এক্স-রে করার জন্য ১০০ টাকা নেওয়া হবে। হাসপাতাল সূত্রে দাবি, দ্রুত ইউনিট চালু হবে।
কিন্তু জেলা হাসপাতালের দাবিতে ভরসা খুঁজে পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। কেন না, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর রামপুরহাট জেলা হাসপাতালে ৫ শয্যার ডাইলিসিস ইউনিটের উদ্বোধন হওয়ার পর এখনও চালু হয়নি! হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ইউনিটের ভোল্টেজ স্টেবিলাইজার এখনও লাগানো হয়নি। অথচ রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচীতে শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীদের ভাষণে ইউনিট চালু হয়েছে বলে বক্তব্য শোনা যায়। এখানেই শেষ নয়। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় আগে উদ্বোধন হয়েছিল হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট। সেখানে ৬টি টেকনিশিয়ান পদে এখনও একজনও টেকনিশিয়ান নিয়োগ হয়নি! দামি দামি যন্ত্রপাতি কোনও কাজেই লাগছে না। ফলে ইউনিটের একটি অংশ এইচ ডি ইউ ইউনিটের ৮টি অত্যাধুনিক শয্যায় ধুলো জমছে। ইউনিটের জন্য গ্রুপ ডি স্টাফ ও নার্স প্রয়োজনের তুলনায় কম। চিকিৎসক ৮ জনের জায়গায় ৪ জন থাকার জন্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের ৪টি শয্যা যখন ভর্তি থাকে তখন ওই চারজন চিকিৎসকে চাপের মধ্যে রাত দিন কাজ করতে হয়।
অধিকাংশ রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের দাবি, হাসপাতালে উন্নত পরিষেবা ব্যবস্থার জন্য কেবলমাত্র উদ্বোধন হচ্ছে কিন্তু যাদের জন্য পরিষেবা চালু করা হচ্ছে, অত্যাধুনিক যন্ত্র কেনা হচ্ছে। কিন্তু রোগীরা পরিষেবা পাচ্ছেন না। এর ফলে রোগী রেফার আটকানো যাচ্ছে না। কী বলছেন জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা?
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি বলেন, ‘‘রামপুরহাটের ব্যাপারটা খুব একটা দেখি না। ওখানে আলাদা একজন সিএমওএইচ আছেন, তিনি দেখছেন।’’ স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ব্রজেশ্বর মজুমদার বলেন, ‘‘ডিজিটাল এক্স-রে ইউনিট শুক্রবার থেকে চালু হবে। আর ডাইলিসিস ইউনিটে একসঙ্গে দশ জন রোগী না থাকলে চালু করা যচ্ছে না।’’